নরসিংদী প্রতিনিধি:নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত কিশোরী আমেনা হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী (৪০), প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) এবং হযরত আলী (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার সঙ্গে নিহত আমেনার আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়া ঘটনার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে হযরত আলীর বাড়িতে হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার দলবদ্ধভাবে আমেনাকে ধর্ষণ করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমের সৎ পিতা আশরাফ আলী তাকে সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, মেয়েটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।
নরসিংদী জেলা পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় গত ৬ মার্চ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় চারজন ধর্ষকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামিরা হলেন— এবাদুল্লাহ (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), আইয়ুব (৩০) এবং ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)।
এ ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৯(৩)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৬১/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে সচেতন মহলের দাবি,এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে আলোচিত কিছু মামলার মতো “জজ মিয়া নাটক” সাজিয়ে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যেন না হয়, সে বিষয়েও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———