জাতীয়

‘মাজলুম’ ইমেজ বনাম অমীমাংসিত প্রশ্ন:বিদেশি নাগরিকত্ব,সম্পদের উৎস ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি

  প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:০৭:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

‘মাজলুম’ ইমেজ বনাম অমীমাংসিত প্রশ্ন:বিদেশি নাগরিকত্ব,সম্পদের উৎস ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি

বিশেষ অনুসন্ধানী রিপোর্ট।।বিদেশি নাগরিকত্ব,বড় অঙ্কের সম্পদ ও অর্থ প্রেরণের বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত জনস্বার্থে অপরিহার্য।এখানে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা হয়নি; বরং আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে তথ্য যাচাই ও কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির দাবি তোলা হয়েছে।প্রমাণ সামনে এলে বিতর্কের অবসান হবে; না এলে গুজব ও মেরুকরণ বাড়বে।সত্য উদ্ঘাটনের একমাত্র পথ—আইনসম্মত তদন্ত ও তথ্যের প্রকাশ।

এক নজরে

বিদেশি নাগরিকত্ব: তুরস্কের নাগরিকত্ব পেতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রশ্ন।

সম্পদ: বিদেশে আবাসনসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদের আলোচনা।

আয়ের উৎস: নির্দিষ্ট সময়কালে দৃশ্যমান আয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন।

অর্থ প্রেরণ: বৈধ চ্যানেল ও আইনি কাঠামোর মধ্যে অর্থ পাঠানো হয়েছে কি না—অনুসন্ধানের দাবি।

প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন নিজেকে ‘মাজলুম সাংবাদিক’ ও দুর্নীতিবিরোধী কণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করা একজন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে ঘিরে সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকত্ব,বিদেশে আবাসন ক্রয় ও সম্পদের উৎস নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণে বিষয়গুলো জনপরিসরে আসে।

নাগরিকত্ব ও বিনিয়োগ: কী জানা যাচ্ছে

তুরস্কে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিনিয়োগ শর্ত রয়েছে—এটি উন্মুক্ত তথ্য। আলোচনায় আসা দাবিতে বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। মূল প্রশ্নগুলো হলো:

বিনিয়োগের পরিমাণ ও উৎস কী?

অর্থ কোন বৈধ ব্যাংকিং/রেমিট্যান্স চ্যানেলে প্রেরিত হয়েছে?

সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও নথি প্রকাশ করা হবে কি না?

এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি বা কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বিবৃতি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

আয়ের উৎস ও সময়রেখা

সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী আলোচ্য সময়কালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দৃশ্যমান চাকরি বা ব্যবসায়িক আয়ের তথ্য সীমিত। যাচাইযোগ্য বিষয়গুলো:

পূর্বের সঞ্চয় বা সম্পদ বিক্রির দলিল

বিদেশে বৈধ চাকরি/বিনিয়োগ আয়ের প্রমাণ

কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণীর সামঞ্জস্য

এই তথ্যগুলো প্রকাশ পেলে বিতর্কের বড় অংশই নিষ্পত্তি হতে পারে।

অর্থ প্রেরণ ও আইনগত কাঠামো

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি-নিষেধ,সীমা ও অনুমোদন প্রযোজ্য।তাই প্রশ্ন উঠছে—

অর্থ পাঠানো হলে তা কোন অনুমোদিত চ্যানেলে হয়েছে?

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ বিধি মানা হয়েছে কি না?

যে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তযোগ্য।

কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও জবাবদিহি

এ ধরনের অভিযোগ ও প্রশ্নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে—

দুদক: সম্পদের উৎস ও স্বার্থসংঘাত যাচাই

বাংলাদেশ ব্যাংক: রেমিট্যান্স/ফান্ড ট্রান্সফার অডিট

এনবিআর: আয়কর, কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণীর মিল

এখন পর্যন্ত কোনো সংস্থার আনুষ্ঠানিক তদন্ত ঘোষণার তথ্য নিশ্চিত নয়।

গণমাধ্যম ও জনস্বার্থ

গণমাধ্যমের দায়িত্ব—

যাচাই ছাড়া দোষারোপ নয়

প্রশ্ন উত্থাপন ও তদন্তের দাবি জোরালো করা

ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়,প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা

আরও খবর

Sponsered content