প্রতিনিধি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৩৮:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ডেস্ক রিপোর্ট।।মসজিদের ইমাম,মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য কর্মীদের বেতন কাঠামো ও ছুটি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নীতিমালাটি গেজেটভুক্ত হয়।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,নীতিমালা প্রণয়নে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করেছে। চূড়ান্ত করার আগে দেশের খ্যাতনামা আলেম-ওলামা এবং ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এসব সভায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালায় খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমামকে ৫ম গ্রেড,পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ইমামকে ৯ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম, মুয়াজ্জিন ১১তম,প্রধান খাদেম ১৫তম ও খাদেম ১৬তম গ্রেডে বেতন পাবেন।খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের কল্যাণে সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ,মাসিক সঞ্চয়ের বিধান এবং চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের নির্দেশনা রাখা হয়েছে।
এছাড়া মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটিও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে তারা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন।পাশাপাশি বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে এক দিন অর্জিত ছুটির সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা,দায়িত্ব ও চাকরি-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে।
নীতিমালায় প্রথমবারের মতো মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।নারীদের জন্য শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৫ জন নির্ধারণ করা হলেও মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় তা কমবেশি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
চাকরি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন।নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তা নিরসন করবে।
এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হলো।
















