নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন কেবল সাংবিধানিক কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ—বাস্তবে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদে কাজ করা তো দূরের কথা,বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মাহফুজ আনাম।
সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বলেন,“মতপ্রকাশ তো দূরের কথা,বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে গেছে।সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত মামলা,হুমকি ও নানামুখী চাপের মুখে রয়েছেন।”
সংকুচিত মতপ্রকাশের বাস্তবতা
মাহফুজ আনামের ভাষ্য অনুযায়ী,বর্তমানে সংবাদমাধ্যমকে একাধিক দিক থেকে চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, এমনকি অনলাইনভিত্তিক সংগঠিত আক্রমণও সাংবাদিকতার পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে।এর ফলে অনেক সাংবাদিক বাধ্য হচ্ছেন স্ব-নিয়ন্ত্রণ (self-censorship)-এ যেতে।
আইনি হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতা
তিনি বলেন,ডিজিটাল আইন,মানহানি মামলা ও বিভিন্ন ফৌজদারি ধারার অপপ্রয়োগ সাংবাদিকদের মধ্যে ভয় তৈরি করছে।অনেক ক্ষেত্রে সত্য সংবাদ প্রকাশের পরও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার,জিজ্ঞাসাবাদ বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে।
একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে রিপোর্টিং করতে গিয়ে শারীরিক হামলার ঝুঁকি এবং অনলাইনে চরিত্রহনন ও হুমকি—দুই দিক থেকেই সাংবাদিকরা অনিরাপদ।
সংবিধান বনাম বাস্তবতা
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন মাহফুজ আনাম।তিনি বলেন,“আইনের অস্পষ্টতা ও প্রয়োগের ধরন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে ফেলছে।”
গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত
বিশ্লেষকদের মতে,সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ হলে জবাবদিহি দুর্বল হয় এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মাহফুজ আনামের এই বক্তব্য তাই কেবল একজন সম্পাদক বা সংগঠনের সভাপতির উদ্বেগ নয়;এটি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি।
সমাধানের আহ্বান
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমবান্ধব আইন সংস্কার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান।
মাহফুজ আনামের কণ্ঠে উচ্চারিত “বেঁচে থাকা মুশকিল”—এই বাক্যটি আজ দেশের সাংবাদিকতার বাস্তবতার এক কঠোর ও বাস্তব প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।
![]()
















































সর্বশেষ সংবাদ :———