প্রতিনিধি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:১০:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।একজন সাধারণ নাগরিক বাংলাদেশে ভোটার হতে গেলে যেন সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হতে হয়। কখনো বলা হয়— সার্ভার ডাউন,কখনো— সময় লাগবে, কখনো— ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না,কখনো— ডাটা মিসিং।মাসের পর মাস,বছরের পর বছর ধরনা দিয়েও ভোটার হওয়া যায় না।রাষ্ট্রের মৌলিক নাগরিক অধিকার যেন এখানে করুণা নির্ভর।

অথচ বিস্ময়কর বাস্তবতা হলো—একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা দেশে পা রেখেই ৭ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভোটার তালিকাভুক্ত,জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত,সব প্রক্রিয়া শেষ!প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটা কি প্রশাসনিক দক্ষতা,নাকি ক্ষমতার অলিখিত বিশেষ সুবিধা?
এটাই কি সংবিধানের চোখে সমতা?
এটাই কি আইনের শাসন?
সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলছে— আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান।কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি,আইনের এক রূপ সাধারণ মানুষের জন্য,আরেক রূপ ক্ষমতাবানদের জন্য। সাধারণ জনগণের বেলায় কেবল অজুহাত,সময়ক্ষেপণ ও ভোগান্তি; আর ক্ষমতাবানদের বেলায় যেন রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই রেড কার্পেট বিছিয়ে দেয়।
তাহলে প্রশ্ন আসে—
আইন কি সবার জন্য এক?
নাকি ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা দরজা,আলাদা লাইন, আলাদা নিয়ম?
এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় বারবার প্রমাণিত হয়—এই দেশে জনগণ অনেক সময় টিস্যু পেপারের মতো।প্রয়োজন হলে ব্যবহার,প্রয়োজন শেষ হলে ছুঁড়ে ফেলা। ভোটের সময় জনগণই সার্বভৌম,আর বাকি সময় তারা কেবল ভোগান্তির পরিসংখ্যান।
এটাই কি আমরা চেয়েছিলাম?
এটাই কি জুলাই আন্দোলনের চেতনা?
এটাই কি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন?
যদি নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এমন নগ্ন বৈষম্য চলতেই থাকে,তবে গণতন্ত্র,সমতা,জনগণের রাষ্ট্র—এসব শব্দ কেবল পোস্টার,স্লোগান আর বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাস্তবে রাষ্ট্র তখন জনগণের নয়, হয়ে উঠবে একটি বিশেষ শ্রেণির সুবিধাভোগী ক্লাব।
বাংলাদেশ বলে কথা—কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়,
এই বাংলাদেশ কি সত্যিই জনগণের?
নাকি কেবল প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের?
এই প্রশ্নের উত্তর না মিললে,রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা শুধু কমবে না—একদিন পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।










