প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৪৪:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশ আজ এক ভয়ংকর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়—এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা,ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র এবং সামাজিক শান্তির জন্য একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ব্যর্থতা মানে শুধু আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন নয়; ব্যর্থতা মানে দেশকে ঠেলে দেওয়া একটি অজানা, অস্থির ও সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী ভবিষ্যতের দিকে।

ইতিহাস সতর্ক করে
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪—এই তিনটি নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ভোটারবিহীন কেন্দ্র
রাতের ভোট
প্রশাসনিক প্রভাব
বিরোধী মত দমনের অভিযোগ
এসবের ফল ছিল একটাই—রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার চরম সংকট।সেই ক্ষত আজও শুকায়নি।
এবার পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক
আজকের বাংলাদেশ ২০১৪ বা ২০১৮ সালের বাংলাদেশ নয়।
শিক্ষিত কিন্তু বেকার তরুণদের সংখ্যা বেড়েছে
দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে
ছাত্রসমাজ রাজনীতির বাইরে থাকলেও বঞ্চনার বাইরে নেই
এই বাস্তবতায় যদি আবারও একটি ভোটারবিহীন বা কারচুপির নির্বাচন হয়,তবে তা হবে আগুনে ঘি ঢালার শামিল।
ছাত্র আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান—দূরত্ব খুব কম
বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষী—
১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৯০, ২০১৮—প্রতিবারই ছাত্রসমাজ রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রথম দাঁড়িয়েছে।
যদি জনগণের ভোটাধিকার আবারও কেড়ে নেওয়া হয়,তবে তা একটি নতুন ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দিতে পারে—যার পরিণতি কারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।
এমন পরিস্থিতিতে—
আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ হবে
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে
এমনকি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না
এটি কোনো রাজনৈতিক হুমকি নয়,এটি রাষ্ট্রীয় সতর্কতা
এ কথা মনে রাখা জরুরি—
এটি কোনো দলের হুমকি নয়,কোনো নেতার বক্তব্য নয়;
এটি একটি রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার সতর্ক সংকেত।
যারা মনে করেন প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে সব সামাল দেওয়া যাবে,তারা ইতিহাস থেকে কিছুই শেখেননি।জনগণের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্র টেকসই হয় না।
দায় কার?
যদি নির্বাচন বানচাল হয়,বা আগের মতো প্রহসনে পরিণত হয়—
দায় থাকবে অতিউৎসাহী রাজনৈতিক নেতৃত্বের
দায় থাকবে নির্বাচন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রকদের
দায় থাকবে সেই সব শক্তির,যারা স্বল্পমেয়াদি ক্ষমতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় স্থিতি বিপন্ন করে
শেষ কথা
বাংলাদেশ আর একটি ভুল বহন করার ক্ষমতা রাখে না।
আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন মানে—
> অর্থনৈতিক ধ্বংস
সামাজিক বিশৃঙ্খলা
আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা
এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বাস্তব আশঙ্কা
এখনো সময় আছে।
স্বচ্ছ,অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই একমাত্র পথ, যা বাংলাদেশকে শতাব্দীর ভয়াবহ সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে।
রাষ্ট্র যদি জনগণের ভোটকে ভয় পায়,
তবে জনগণ একদিন রাষ্ট্রকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে—
এটাই ইতিহাসের নির্মম সত্য।















