প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৩৪:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ—এই কথাটি আজ বারবার উচ্চারিত হলেও বাস্তবতায় সেই স্তম্ভই আজ নড়বড়ে হয়ে পড়ছে।কারণ,সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা ও আইনগত বৈধতা ছাড়াই ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে মাঠে নেমে পড়া একটি শ্রেণি। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ঘটনা এক: সম্প্রতি এক জেলা শহরে একটি ভুয়া অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে বিজ্ঞাপনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আটক হয়।অনুসন্ধানে দেখা যায়—ওই পোর্টালের নেই কোনো নিবন্ধন,নেই সম্পাদকীয় বোর্ড,এমনকি প্রেস কাউন্সিলের সাথেও কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।তবু গলায় ঝুলছিল রঙিন প্রেস কার্ড।
ঘটনা দুই: আরেক ঘটনায় দেখা যায়,একটি ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি সহায়তা বণ্টন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সংবাদ’ প্রচার করে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে জানা যায়,সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের পরিচালকের কোনো বৈধ মিডিয়া পরিচয় নেই।উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনকে ব্ল্যাকমেইল করে সুবিধা আদায়।
ঘটনা তিন: রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে থানায়,হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃতভাবে প্রচারের ঘটনাও বাড়ছে।এতে একদিকে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হচ্ছে,অন্যদিকে প্রকৃত সাংবাদিকরাও সন্দেহের চোখে পড়ছেন।
এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি গভীরতর ব্যাধির লক্ষণ।যখন সাংবাদিক পরিচয় যাচাইয়ের কোনো শক্তিশালী ও বাধ্যতামূলক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থাকে না,তখন এই শূন্যস্থান দখল করে নেয় সুবিধাবাদীরা।এর ফল ভোগ করে পুরো সমাজ।
সম্পাদকীয় দৃষ্টিতে স্পষ্ট—এটি কেবল গণমাধ্যমের সমস্যা নয়, এটি শাসনব্যবস্থা,আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক আস্থার প্রশ্ন। সরকার,নির্বাচন কমিশন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যম মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও আত্মশুদ্ধি ও পেশাগত শৃঙ্খলায় ফেরার দায় রয়েছে।
আজ যদি ভুয়া সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া না হয়,তবে আগামী দিনে সত্যিকারের সাংবাদিকতার কণ্ঠই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এটাই এই সম্পাদকীয়র সতর্কবার্তা।















