অপরাধ-আইন-আদালত

ভান্ডারিয়ায় এসআই ও সালিশগণের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ,ভিডিও ভাইরাল:অপহরণ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহ আড়াল করতে আপোষের অভিযোগ

  প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৩৫:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

ভান্ডারিয়ায় এসআই ও সালিশগণের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ,ভিডিও ভাইরাল:অপহরণ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহ আড়াল করতে আপোষের অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিনিধি।।পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে তুলে নিয়ে তথাকথিত হলফনামার মাধ্যমে বিয়ের ঘটনায় পুলিশ ও কতিপয় সালিশগণের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে জয় মাহমুদ (১৮) একই গ্রামের প্রতিবেশী খলিল হাওলাদারের কন্যা—ভিকটিম (ছদ্মনাম খাদিজা,বয়স ১৬)—কে তুলে নিয়ে একটি হলফনামার মাধ্যমে বিয়ে করে। ভিকটিম অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ঘটনাটি স্পষ্টতই আইনবিরোধী হলেও বিষয়টি আইনের আওতায় না এনে আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভান্ডারিয়া থানার এসআই মো. ফারুক হোসেন, ঝিলিক নামের এক নারী এবং কয়েকজন স্থানীয় সালিশগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা আপোষের নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। পরে ভিকটিমের বয়স ১৯ বছর পূর্ণ হলে পুনরায় বিয়ে দেওয়ার শর্ত আরোপ করে উভয় পক্ষের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি দেখানো হয়।

অভিযোগের আরও গুরুতর দিক হলো—ঘটনাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ সম্প্রতি “ঝিলিক” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আইনি বিশ্লেষণ

এই ঘটনায় একাধিক গুরুতর আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে—

১. শিশু বিবাহ নিরোধ আইন,২০১৭
আইনের ৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
হলফনামা বা সম্মতির মাধ্যমে শিশু বিবাহ বৈধ করা যায় না।
এই অপরাধে বর,অভিভাবক ও সহায়তাকারী সবাই শাস্তিযোগ্য।

২. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তুলে নেওয়া (অপহরণ) গুরুতর অপরাধ।
আপোষের মাধ্যমে এ ধরনের মামলা আইনত নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।

৩. দণ্ডবিধি (Penal Code), ১৮৬০

ধারা ৩৬৬: অপহরণ করে বিয়েতে বাধ্য করা।
ধারা ৩৪২/৩৪৩: বেআইনি আটক।
এসব ধারায় কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

৪. পুলিশ কর্তব্যে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার

কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ফৌজদারি অপরাধে আপোষ করাতে পারেন না।

অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিললে এটি দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হওয়া বিষয়টি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মত

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,

> “শিশু বিবাহ ও অপহরণের মতো অপরাধ আপোষে মীমাংসা করা সম্পূর্ণ বেআইনি।এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তা আরও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

দাবি ও প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও সালিশগণের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা

ভিকটিমের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content