প্রতিনিধি ৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২০:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।দেশের রাজনৈতিক ও গণঅভ্যুত্থানমূলক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ,জুলাই বিপ্লবের ফ্রন্টলাইনার তাহরিমা জান্নাত সুরভী,গত ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেফতার হয়েছেন।অভিযোগ—৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি।তবে তথ্য ও আইনি বিশ্লেষণ স্পষ্ট বলে যে, এই মামলা মিথ্যা,ভিত্তিহীন এবং প্রতিশোধমূলক।

আইনজীবী ও বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত অনুযায়ী,মামলার বাদী নাঈমুর রহমান দুর্জয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার প্রভাব দেখিয়ে সুরভীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। দুর্জয় একসময় সুরভীকে কক্সবাজার ভ্রমণের প্রস্তাব দেন,যা সুরভী প্রত্যাখ্যান করেন ও ফেসবুকে প্রতিবাদ জানান।এর ফলে দুর্জয়ের ইগো আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রতিশোধের ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
দুর্জয় নিজে অফিসের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াই গাজীপুরে যান,শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে।সুরভী তাকে জনসমক্ষে দেখেই ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।এ ঘটনার পর দুর্জয় সুরভীর বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করেন। ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং অনলাইন নিউজে ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি প্রচারিত হলেও,সুরভীর বাসা বা আর্থিক উপাত্ত এই অভিযোগকে সমর্থন করে না।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়,অভিযোগের কোনও প্রমাণ বা এজাহারের ভিত্তি নেই।এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্তিগত আক্রোষ থেকে পরিচালিত হয়রানিমূলক মামলা।প্রশাসন যাচাই-বাছাই ছাড়াই সুরভীকে গ্রেফতার করায় এটি দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার উপর আঘাত।
সংবাদপত্র ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রচারিত মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করছি।সমাজকে বিভ্রান্ত করা,ন্যায়বিচারকে দমন করা এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় থাকা কণ্ঠকে চুপ করানোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
আমরা দাবি করছি:
১. অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
২. তাহরিমা জান্নাত সুরভীসহ জুলাই বিপ্লবের শান্তিপ্রিয় আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধকে আইনি কাঠামোর আড়ালে বৈধতা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
ইতিহাস সাক্ষী থাকবে যে,ব্যক্তিগত প্রতিশোধের নামে ন্যায়বিচারকে দমন করা হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই ধ্বংস হয়। তাই এই মুহূর্তে ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
















