অপরাধ-আইন-আদালত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষণা:জবাবদিহি নাকি নির্বাচনী অনিশ্চয়তা

  প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৩২:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষণা:জবাবদিহি নাকি নির্বাচনী অনিশ্চয়তা

ডেস্ক রিপোর্ট।।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাম্প্রতিক ঘোষণাটি কেবল অতীতের ঘটনার জবাবদিহির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সামনে থাকা জাতীয় নির্বাচনের বাস্তবতার সঙ্গেও তা গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের পক্ষ থেকে যেসব থানার আওতায় ছাত্র–জনতা শহীদ হয়েছেন,সেই সময় দায়িত্বে থাকা ওসিদের নাম ধরে মামলা করার উদ্যোগ এবং এসপি থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ঘোষণায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আন্দোলনের নেতারা বলছেন,রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের নামে সংঘটিত সহিংসতায় ব্যক্তিগত দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের ভাষায়,‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।’এই ঘোষণাকে তারা দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছেন।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন দৃষ্টিকোণও সামনে আনছে।বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন রাজনৈতিক চাপ,জনআস্থার সংকট এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।এর মধ্যেই সামনে রয়েছে একটি বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন।এই প্রেক্ষাপটে অতীত ঘটনার জন্য নাম ধরে মামলা করার ঘোষণা মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।অনেক কর্মকর্তার আশঙ্কা, আজকের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে,এর সম্ভাব্য প্রভাব দুই রকম হতে পারে। একদিকে,দায়ের ভয়ে পুলিশ আরও সতর্ক বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে,যা নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।অন্যদিকে,কেউ কেউ আত্মরক্ষামূলক মানসিকতা থেকে অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নিতে পারেন,যাতে পরবর্তীতে দায় এড়ানো যায়।উভয় পরিস্থিতিই নির্বাচনী পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে মত তাদের।

নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবসময়ই সংবেদনশীল।এমন অবস্থায় অতীতের ঘটনার বিচারিক উদ্যোগ ও বর্তমান দায়িত্ব পালনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, এই উদ্যোগ যদি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোয়, তবে তা ইতিহাসের দায়বদ্ধতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু যদি তা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক ভীতি বাড়িয়ে তোলে, তবে সামনে থাকা নির্বাচন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

সব মিলিয়ে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষণার প্রভাব কেবল আদালত বা ট্রাইব্যুনালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রতিধ্বনি পড়বে নির্বাচন, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর। এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দায়বদ্ধতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আরেকটি অধ্যায় যোগ করবে—তা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের পথ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়ার ওপর।

আরও খবর

Sponsered content