জাতীয়

বৈধ অস্ত্র জমা, কিন্তু লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র—নির্বাচনী নিরাপত্তার বড় হুমকি?

  প্রতিনিধি ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৫০:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বৈধ অস্ত্র জমা, কিন্তু লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র—নির্বাচনী নিরাপত্তার বড় হুমকি?

নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।উদ্দেশ্য—নির্বাচনকে অবাধ,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখা।কিন্তু নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে,নির্বাচনের জন্য প্রকৃত হুমকি বৈধ অস্ত্র নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে লুট হওয়া সরকারি ও পুলিশি অস্ত্র এবং অবৈধ গোলাবারুদই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

কেন বৈধ অস্ত্র তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ?

বৈধ অস্ত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত,মালিক শনাক্তযোগ্য এবং নিয়মিত নবায়নের আওতায় থাকে

অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নজরদারি থাকে

নির্বাচনী সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনায় লাইসেন্সধারী অস্ত্র ব্যবহারের নজির তুলনামূলক কম

প্রকৃত হুমকি কোথায়?

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী—

বিভিন্ন সময়ে থানা,পুলিশ ভ্যান ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি

এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এসএমজি,রাইফেল,পিস্তল ও বিপুল গোলাবারুদ

এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয় অপরাধী চক্র, রাজনৈতিক ক্যাডার ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে

নির্বাচনকালীন সহিংসতা,ভোটকেন্দ্র দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনে এসব অস্ত্রই বেশি ব্যবহৃত হয়

প্রশ্ন উঠছে—

যদি বৈধ অস্ত্র জমা দিয়েই নির্বাচন নিরাপদ করা যেত,তবে
লুট হওয়া হাজারো অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো উদ্ধারের বাইরে কেন?

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান অভিযান ছাড়া কেবল লাইসেন্সধারীদের নিরস্ত্র করা কি নির্বাচনী ভারসাম্য নষ্ট করে না?

নির্বাচন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মত

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কার্যকর হতে হলে—

১. লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রের তালিকা প্রকাশ ও বিশেষ উদ্ধার অভিযান

২. নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্রবিরোধী যৌথ বাহিনী অভিযান

৩. লাইসেন্সধারীদের পাশাপাশি প্রভাবশালী অবৈধ অস্ত্রধারীদের ওপর নজরদারি

৪. অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় সবার জন্য সমান আইন প্রয়োগ

তা না হলে,বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া প্রতীকী পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকবে,আর প্রকৃত হুমকি থেকে যাবে অচিহ্নিত ও অনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রের হাতে।

আরও খবর

Sponsered content