প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৪০:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জীবনপথ ব্যক্তিগত সংগ্রাম,পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক উত্থানের এক অনন্য ইতিহাস।শৈশব থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছানোর এই যাত্রা শুধু বাংলাদেশের নয়,মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
বেগম খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে।জন্মের পর প্রথম দুই বছর তাঁর জীবন কাটে সেখানেই।১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলে তাঁর বাবা ইস্কান্দার মজুমদার পরিবারসহ দিনাজপুরে চলে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন ফেনী জেলার বর্তমান পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। ব্যবসার উন্নতির আশায় তিনি দিনাজপুরে আসেন।এর আগে ১৯১৯ সালে তিনি জলপাইগুড়িতে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন এবং একটি চা-বাগানে চাকরি নেন।পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে চায়ের ব্যবসা শুরু করে জলপাইগুড়ির ‘চা বাগান সমিতি’র সম্পাদক নির্বাচিত হন।১৯৩৭ সালের ১৯ মার্চ তাঁর সঙ্গে তৈয়বা মজুমদারের বিয়ে হয়।
এই পরিবার ‘টি-ফ্যামিলি’ নামে পরিচিত ছিল।তাঁদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয় সন্তান।তাঁর মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন সমাজকর্মী এবং দিনাজপুরের বাড়িতে দুস্থ নারীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। বর্তমানে তাঁর বাবা-মা কেউই জীবিত নেই।
শিক্ষা জীবন
খালেদা জিয়ার শৈশব ও শিক্ষা জীবন কাটে দিনাজপুরে।পাঁচ বছর বয়সে ‘খালেদা খানম পুতুল’ নামে পরিচিত খালেদা জিয়াকে তাঁর বাবা দিনাজপুরের সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে ভর্তি করান।সেখানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস স্কুল) থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
দাম্পত্য জীবন
১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় পিত্রালয়ে সেনাবাহিনীর তরুণ ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা খানম পুতুলের বিয়ে হয়।বিয়ের পর প্রথম চার বছর তাঁরা দিনাজপুরে বসবাস করেন।পরে স্বামীর কর্মস্থলের কারণে তিনি বগুড়ার বাগবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে বেগম খালেদা জিয়া তখন একজন গৃহবধূ।রাজনীতিতে তাঁর কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না।তবে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের আমলে বিএনপির ভাঙন সৃষ্টির নানা প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে দলের নেতাদের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
১৯৮২ সালে তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন।দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাঁর নেতৃত্বগুণের কারণে ১৯৮৩ সালে ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে তাঁর নেতৃত্বে।
এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।তাঁর এই রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।














