প্রতিনিধি ৫ অক্টোবর ২০২২ , ৫:০৯:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।এই ছেমরি তুই খুনের কি বুঝিস। ওরে আমি মারছি।রাতের অন্ধকারে ধারালো ছুরি দিয়া।আপনেরা আমারে ধরেন আমি মারছি আমি ওরে মারছি।

সকাল থেকে পুলিশের গাড়ি এসে ভিড় করেছে পারুলের ঘরের সামনে।লোকজন গিজগিজ করছে।ফিরোজ খুন হয়েছে।কে খুন করেছে এখন জানা যাইনি!নীলু আর পারুলকে জিজ্ঞাসা বাদ করা হচ্ছে।কিন্তু দুজনের একই কথা আমি খুন করেছি।সবাই বলাবলি করছে দুইবোন মিলে এই কাজ করেছে অথবা কেউ এদের দিয়ে করিয়েছে।
,
পারুল সেই থেকেই নিথর হয়ে লাশের দিকে তাকিয়ে আছে । খুব জঘন্য ভাবে হত্যা করা হয়েছ।ফিরোজের পুরুষাঙ্গ কিছু একটা দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে।গলায় ধারালো বঁটির চিহ্ন।নীলু সেই থেকে কেঁদেই যাচ্ছে আর বলছে দুলাভাইরে আমি খুন করছি। আমারে ধইরা নিয়ে যান। আমার বুবু কিছু করে নাই। ”
তুমি যহন কামে যাও দুলাভাই আমার শরীলে হাত দেয় বুবু!এগারো বছরের ছোট বোনের মুখে এমন কথা শুনে থমকে দাঁড়ায় পারুল।বোনকে কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করে ,”নীলু , বইন আমার কি কও এই সব। উনি তোমার ভাইয়ের মতো।তোমারে অনেক আদর করে ।
,্
নীলু জামাটা একটু উঁচু করে বোনকে দেখিয়ে বললো ,
,
” বুবু দ্যাহো দুলাভাই কামড় দিয়ে আমারে লাল করে দিছে। হেই দিন তুমি কামে যাওয়ার পর দুলাভাই আমারে কইলো নীলু ,পানি দে,আমি পানি নিয়া যাইতেই আমারে জোর কইরা শুয়াইয়া দিছে।আমি জোরাজুরি করতেই একখান কামড় দিছে বুবু।
,
পারুল চমকে উঠলো।কি শুনছে ছোট বোনের মুখে এই সব। একমাত্র ছোট বোন নীলু। বাবা মা ছোট থাকতেই মারা যায় । বাসায় বাসায় কাজ করে দুজনের পেট চালাতো পারুল । একদিন ফিরোজের সাথে পরিচয়।ফিরোজ ছিল কেয়ারটেকার। সেই বাসায় কাজ করতো পারুল।প্রথম প্রথম লজ্জায় কথা বলতে পারতো না ফিরোজের সাথে।আস্তে আস্তে দুজনের কাছে আসা তারপর বিয়ে।বিয়ের পর থেকেই নীলু ওদের কাছে।এক বছর হয়েছে পারুল আর ফিরোজের বিয়ে।পারুল সকাল হলেই রান্না সেরে চলে যায় কাজে।ফিরোজ যে বাসার কেয়ারটেকার সে বাসায় ঘর উঠিয়ে থাকতে দিয়েছে মালিক ।
,
তাই ফিরোজ সারা দিন বাড়িতে থাকে।নীলুকে একটা স্কুল এ ভর্তি করেছে পারুল।সকাল থেকে বারোটা পর্যন্ত স্কুল। বাকিটা সময় ঘরের টুকটাক কাজ করে।নীলু দেখতে চমৎকার।গায়ের রঙ ধবধবে সুন্দর।কিন্তু পারুলের গায়ের রঙ একটু চাপা। তাছাড়া বাকিটা দুই বোনের একরকম দেখতে।টানাটানা চেহারা।
কিন্তু ইদানীং নীলুর যৌবন ফুটে উঠছে।এগারো বছরে পা দিয়েছে সেদিন।ফিরোজ দিন দিন নীলুর দিকে কামনার দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে।যেটা আস্তে আস্তে ভয়ঙ্কর রুপ নিতে চলেছে ।
,
পারুল কাজে গেলেই এটা ওটার বাহানায় কাছে ডাকে নীলুকে ফিরোজ।ওর কচি কচি চেহারার দিকে তাকিয়ে কামনার রস ফেলে শরীরে হাত দেয় আর বলে নীলু , তোর শরীল এতো গরম ক্যান?দেহি দেহি কাছে আয়। তোর জ্বর আইলো নাকি।
,
নীলু বুঝতে পারে ফিরোজ আজও ওকে বিছানায় নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে চাইবে।তাইতো কিছু না বলে দৌড়াতে দৌড়াতে বাইরে চলে আসে।অপেক্ষা করে বুবুর জন্য।আজ বুবুকে সব বলবে নীলু।
,
সব কিছু দেখে শুনে পারুল থমকে যায়।ছিঃ ছিঃ এটা কি শুনছে!ফিরোজ এতোটা জঘন্য হয় কিভাবে?কাজ থেকে সবেমাত্র এসেছে পারুল।মনটা এক অজানার ছটফট করছে । কি করবে এখন পারুল।নীলুর যে পারুল ছাড়া কেউ নেই। এমন সময় ফিরোজ ঘরে এলো।এসেই পারুল কে দেখে বললো পারু,তুমি আইছো।নীলুর গায়ে জ্বর দেখলাম।তুমি দ্যাহোতো মাইয়াডার কি হইলো।জ্বর হইলে ওরে ডাক্তারের কাছে নিতে হইবো।
,
পারুল ফিরোজের এমন কথা শুনে একটু অবাক হলো।কৈ ফিরোজের কথায় তো কোনও খারাপ কিছু নেই।তাইলে কি নীলু ছোট মানুষ হইয়া ভুল কিছু কইলো।ফিরোজ তো নীলুর ভালোই চায়।নীলু হয়তো ওর দুলাভাইরে ভয় পায়।তাই এমন ভুল বুঝো।ছোট বেলা থেইকা মাইয়াডা এমন।সহজে কারো লগে মিশতে চায়না।
,
তাইতো পারুল ব্যাপার টা সহজ ভাবে নিয়ে নীলুর গায়ে হাত দিয়ে দেখে সত্যি জ্বর!আরো শিওর হয়ে গেল নীলু ফিরোজকে ভুল বুঝছে। নীলুকে পারুল বললো নীলু,তোর গায়ে তো সত্যি জ্বর!চল তোরে ওষুধ আইনা দেই।
,
এই বলেই পারুল নীলুকে নিয়ে ডক্টর দেখাতে চলে গেল । সুচতুর ফিরোজ মিটমিট করে হেসে দিয়ে বললো,নীলু তুই যতোই আমার নামে নাশিল করোস তোরে আমি একদিন সত্যি সত্যি বিছানায় নিমু।
,
যেতে যেতে পারুল নীলুকে বললো নীলু তুই মানুষটার নামে এমন মিছা কতা কই তে পারলি। তোর কতো খেয়াল রাখে দেখছোস।
,
নীলু বললো বুবু তুমি আমার কথা বিশ্বাস করো দুলাভাই আমারে খালি বিছানায় ডাকে।কাছে গেলে শরিলে হাত দেয়।”
,
” হ আমি বুচছি ক্যান শরীলে হাত দেয়।এই ছেমরি শরীলে হাত না দিলে বুঝলো ক্যামনে তোর জ্বর।হেই তোরে ভাল জানে।নাইলে ডাক্তার দ্যাহোনের কথা কি কইতো।
,
পারুল ছোট্ট নীলুকে বুঝিয়ে বললো ফিরোজ একেবারে সাধাসিধে।ভুল টা নীলুর ।
,














