প্রতিনিধি ২৬ আগস্ট ২০২৫ , ৭:০২:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বুধবার সকালে আবার রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করার ঘোষণা দিয়ে আজকের মতো কর্মসূচি শেষ করেছেন প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার বিকেল থেকে পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করার পর রাত আটটার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে সরে যান তাঁরা।এরপর রাজধানীর ব্যস্ততম ওই মোড় দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ বলেন,তিন দফা দাবি আদায়ে আগামীকাল সকাল ১০টায় আবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হবে।চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট),খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট),রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রুয়েট) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা লংমার্চ করে আগামীকাল সকালে শাহবাগ মোড় অবরোধ করবেন। দাবি আদায়ে সেখান থেকে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাবেন।
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া।এসব দাবিতে মিছিল নিয়ে আজ বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ মোড় এসে অবরোধ করেন বুয়েটসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা।
অবরোধ চলাকালে সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সহসভাপতি শাকিল আহমেদ।তিনি বলেন,তাঁরা ছয় মাস ধরে দাবি জানিয়ে এলেও সরকার এসব দাবি পূরণে কাজ করেনি। সরকার তাঁদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।
এ সময় প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ বলেন,ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে সরকার।তাঁরা সারা দিন সচিবালয়ে থাকলেও কারও সঙ্গে বসতে পারেননি।এরপর তাঁরা বাধ্য হয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাকিল আহমেদ বলেন,রংপুরে একজনকে প্রকৌশলীকে আটকে রেখে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এটাই তাঁদের প্রথম দাবি। ্এ ছাড়া আগে থেকে তাঁরা যে তিন দফা দাবি জানিয়ে আসছেন, সেগুলো মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড় অবরোধ করায় যানজটের ভোগান্তিতে পড়েন অফিস শেষে ঘরমুখী মানুষ। বেলা তিনটা থেকে অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এতে আশপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়,মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগ দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যেসব বাস চলাচল করে,সেগুলো শাহবাগ মোড়ে এসে ফিরে যাচ্ছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যেসব যানবাহন শাহবাগ হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যায়,সেসব যানবাহনকে শাহবাগ মোড় পার হতে দেওয়া হচ্ছে না।কাঁটাবন মোড় হয়ে শাহবাগের দিকে আসা গাড়িগুলো রাস্তায় আটকে আছে।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য শাহবাগে অবস্থিত বারডেম হাসপাতালে এসেছিলেন তাসমিয়া রহিম।তিনি বলেন,যাত্রাবাড়ী থেকে হাসপাতালে আসতে গিয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে এসে তিনি শোনেন যে বাস আর সামনে যাবে না।রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন হচ্ছে।পরে সন্তানকে কোলে নিয়ে হেঁটে হেঁটে হাসপাতালে এসেছেন।
তাসমিয়া রহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ঢাকা শহরে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও আন্দোলন হচ্ছে।এভাবে একটা শহর চলতে পারে না।এসব বন্ধ হওয়া উচিত।













