প্রতিনিধি ৮ মার্চ ২০২৩ , ৩:৪৫:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তান। এখান থেকে সিদ্দিকবাজারের পৌর ভবনটি হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত।এই এলাকার রাস্তার দুধারে বিভিন্ন মার্কেট আর ফুটপাতে থাকে ক্ষুদ্র ব্যবসার পসরা।নিম্ন আয়ের মানুষের কেনাকাটার একমাত্র স্থান এই এলাকা।

গতকাল মঙ্গলবারেও প্রতিদিনের মতো এখানে সবাই জীবন-জীবিকা আর কেনাকাটায় ব্যস্ত।বিকাল পৌনে ৫টা।হঠাৎ সিদ্দিকবাজার এলাকায় নর্থ রোডে পৌর ভবনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ।বিস্ফোরণে দেয়াল ভেঙে ভেতরের জিনিসপত্র ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে।
মুহূর্তে চারপাশ স্তব্ধ।কিছুক্ষণ পর শুরু হলো গগনবিদারী চিৎকার আর হাহাকার।দুর্ঘটনার ঝুঁকি মনে করে বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎসংযোগ।জড়ো হতে থাকে মানুষের ঢল।
বাসের ভেতর পড়ে আছে রক্তাক্ত মাস্ক,চশমা ও জুতা
ওই ভয়াবহ ঘটনার বড় সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাভার পরিবহনের একটি বাস।বিস্ফোরণের কবলে পড়া বাসের ভেতরে ঢুকলে যে কারও বুক কেঁপে উঠবে।বাসের ভেতরে পড়ে আছে আহত ও নিহত যাত্রীদের রক্তে ভেজা মাস্ক, চশমা ও জুতা।এ ছাড়া ভবনের দেয়াল ভাঙার টুকরো, ভবনের কাচ উড়ে এসে গাড়িতে পড়ে।এতে গাড়ির কাচসহ ভেতরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় যখন জ্যাম পড়ে,তখন সিদ্দিকবাজারের পৌর ভবনের সামনেই ছিল বাসটি। বিস্ফোরণে বাসে থাকা ৪৮ যাত্রীর মধ্যে ৩৫ জনই গুরুতর আহত হয়েছেন।এ সময় ঘটনাস্থলেই বাসচালকের সহকারী (হেলপার) নিহত হন।এ ছাড়া বাসের যাত্রীদের মধ্যে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জনের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
বাসের ভেতর পড়ে আছে রক্তাক্ত মাস্ক,চশমা ও জুতা
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিস্ফোরণের পর সাভার পরিবহনের হতাহত হওয়ার বিষয়ে কথা বলেন সুপারভাইজার মনির হোসেন।তিনি বলেন,সদরঘাট থেকে আমাদের সাভার পরিবহনের একটি বাস সাভারের উদ্দেশে ৪৮ জন যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল।বিস্ফোরণের সময় ফুলবাড়িয়ার জ্যাম পড়ে ঘটনাস্থলে আটকে ছিল বাসটি।এ সময় হঠাৎ ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভবনের দেয়াল,গ্রিল, কাচ এসে গাড়িতে আঘাত করে। এতে বাসে থাকা ৪৮ যাত্রীর মধ্যে ৩৫ জনই আহত হয়।এ সময় বাসের হেলপার ঘটনাস্থলেই মারা যায়।বাকি সবাইকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে বাসের কত যাত্রী নিহত হয়েছে,নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সুপারভাইজার মনির।
বাসের ভেতর পড়ে আছে রক্তাক্ত মাস্ক,চশমা ও জুতা
রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ নিহত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে।তখন জানা যায়, নিহত ১৮ জনের মধ্যে বাসে থাকা ৫ যাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শাহাদাত নামের সাভার পরিবহনের এক কর্মচারী বলেন,যেই বাসটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে,আমরা তার পেছনের বাসে ছিলাম। হঠাৎ বিকট একটা আওয়াজ হলো।মনে হয়েছে পুরো শহর কেঁপে উঠেছে।সবার মনে আতঙ্ক তৈরি হলো।আশপাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে গেছে।পরে দেখি সাভার পরিবহনের বাসে থাকা মানুষের চোখ-মুখসহ পুরো শরীর পুড়ে গেছে।ভবনের কাচ গাড়ির গ্লাস ভেঙে মানুষের মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ঢুকে গেছে।একটা কান্নার আহাজারি পড়ে গেছে চারপাশে।
বাসের ভেতর পড়ে আছে রক্তাক্ত মাস্ক,চশমা ও জুতা
তিনি আরও বলেন,দেখলাম যাত্রীদের প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছে।আমি এই অবস্থা দেখে প্রথমে ভয়ে কাছে যাইনি।পরে বেশ কয়েকজন মিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করি।
মাহফুজ নামের দুর্ঘটনায় আহতের এক স্বজন বলেন,যত জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে,তাদের বেশির ভাগের মুখ ও শরীর ঝলসানো ছিল।মুখে ঘাড়ে গালায় ছোট ছোট কাচের টুকরো ছুরির মতো গেঁথে ছিল।সবাই মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিল। চোখের সামনে একেরপর এক লাশ। ষমানুষের শরীরে থেকে এত বেশি রক্ত গিয়েছে যে অনেকেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গিয়েছে।তা ছাড়া বাসে থাকা যাত্রীদের হাসপাতালে আনতে কিছুটা দেরিও হয়েছিল।এমন ভয়ংকর ঘটনার পর সবাই ঘাবড়ে যাই।













