প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৪৯:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতোই বিএনপি প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন লাভ করতে পারত।রাজনৈতিক বাস্তবতায়,আল্লাহর ইচ্ছায় ক্ষমতার ভারসাম্যও ভিন্ন হতে পারত।

বিতর্কিত নির্বাচনের দায় কার?
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন দুটি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।এই দুটি নির্বাচনের দায় শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নয়,বরং আওয়ামী লীগবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তিও এর দায় এড়াতে পারে না।কারণ কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সবাই ব্যর্থ হয়েছে।
ভোটার উপস্থিতির বাস্তব চিত্র
পরিসংখ্যান বলছে—
২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি
অথচ বিতর্কমুক্ত নির্বাচনগুলোতে সাধারণত ৬৫–৭৩ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করে থাকেন
এই হিসাব অনুযায়ী,দুটি বিতর্কিত নির্বাচনে প্রায় ৩২ শতাংশ ভোটার কার্যত ভোটের বাইরে রয়ে গেছেন,যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর সংকেত।
২০০৮ সালের নির্বাচনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
২০০৮ সালের নির্বাচনে:
আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট
বিএনপি পেয়েছিল ৩২ শতাংশ
জামায়াতসহ বিএনপি-জোট পেয়েছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট
আন্তর্জাতিক জরিপের ইঙ্গিত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক IIR (International Institute for Research)-এর একটি জরিপ অনুযায়ী—
যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটার উপস্থিতি হয় ৫৬ শতাংশ,তাহলে:
জামায়াত পাবে প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট
বিএনপি পাবে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট
বাকি ৪৪ শতাংশ ভোট যাবে ফ্যাসিবাদী বা অগণতান্ত্রিক শক্তির অনুকূলে
সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংকট
এই বাস্তবতায়,যদি ৪৪ শতাংশ ভোট এককভাবে বা বিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়,তাহলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।এতে গণতন্ত্র,ভোটাধিকার ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
উপসংহার
অংশগ্রহণমূলক,গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। ভোটারদের একটি বড় অংশকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদে বৈধতা পায় না—এ বাস্তবতা সব রাজনৈতিক শক্তির অনুধাবন করা জরুরি।












