নিজস্ব প্রতিবেদক।।নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।তবে এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ফাইল প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
নির্বাচনের চার দিন আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন,জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে। একই সঙ্গে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
সরকার গঠনের পর এ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব রেবেকা খান বলেন,নাম পরিবর্তনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।বিজিবি বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক চাহিদা এলেই ফাইল প্রক্রিয়াকরণ শুরু হবে।
এদিকে রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পূর্তিতে দিনটি ইতোমধ্যে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং শহীদদের মাগফেরাত কামনা করেন।বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন তদন্তের ঘোষণা
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনের ষড়যন্ত্র নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ঘটনাটি পুনরায় তদন্ত করা হবে।কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’-এর প্রতিবেদনের ওপর বর্তমান সরকার পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না।
১১ মাস তদন্ত শেষে কমিশন তাদের প্রতিবেদনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে এবং প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করে।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল।
সেনাবাহিনীর অবস্থান
তবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পূর্বে এক অনুষ্ঠানে বলেন,পিলখানার বর্বর হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
২০০৯ সালের সেই ঘটনা
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।এতে বিডিআরের মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।দরবার চলাকালে বিদ্রোহ শুরু হয়ে পরে পিলখানাজুড়ে অগ্নিসংযোগ,লুটপাট ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
বর্তমানে বিডিআরের নাম পুনর্বহাল, দিবস ঘোষণার উদ্যোগ এবং নতুন তদন্ত—এই তিন বিষয় ঘিরে পিলখানা ট্র্যাজেডি আবারও জাতীয় আলোচনায় উঠে এসেছে।
![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———