মাজহারুল ইসলাম।।দেশ আজ এক গভীর নৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা,হত্যাকাণ্ড,অগ্নিসংযোগ,ভাঙচুর এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি জাতিকে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু, রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা,বাড়িঘর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেওয়া—এসব ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।যে-ই অপরাধী হোক,যে দলেরই হোক, অপরাধের দায় থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারে না।
রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি আইন; আর সেই আইনের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বিচারহীনতা।যখন মানুষ দেখে হত্যার বিচার হয় না,সহিংসতার দায় নির্ধারণ হয় না,তখন সমাজে প্রতিশোধের মনোভাব জন্ম নেয়।ফলে রাজনীতি পরিণত হয় ন্যায়বিচারের সংগ্রাম নয়,বরং শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায়।
এটি রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র—উভয়ের জন্যই ভয়াবহ সংকেত।

আজ সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—সব হত্যাকাণ্ড,সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের নিরপেক্ষ তদন্ত।কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা বা প্রভাব যেন তদন্তকে প্রভাবিত করতে না পারে।নিহত পুলিশ সদস্য হোক,রাজনৈতিক কর্মী হোক কিংবা সাধারণ নাগরিক—প্রত্যেক প্রাণের মূল্য সমান।নির্বাচিতভাবে বিচার নয়,প্রয়োজন সমান ও নিরপেক্ষ বিচার।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অপরাধী শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।একই সঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোরও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিয়ে কেউ শেষ পর্যন্ত লাভবান হয়নি—ইতিহাস বারবার তা প্রমাণ করেছে।

ন্যায়বিচার কেবল প্রতিশোধ নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার পথ।আজ দেশের মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।দোষী যে-ই হোক,তার বিচার হোক—দ্রুত,স্বচ্ছ এবং আইনের আওতায়।
কারণ বিচার বিলম্বিত হলে শুধু ন্যায়বিচারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পুরো জাতির বিবেকও আহত হয়।এখনই সময়—বিচারহীনতার চক্র ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার।

![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———