মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কাণ্ড আমাদের বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নৈতিক মাপকাঠি পরীক্ষা করেছে।এ ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার নয়; এটি প্রমাণ করে যে,যখন ক্ষমতা অবাধে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হয়,তখন আইন,ন্যায় ও মানবাধিকার নিপীড়িত হয়।
আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,ট্রাইব্যুনাল কেবল ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও,তাজুল ইসলামের অধীনে এটি ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছে।বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যক্তি সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।এর ফলে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা,সেনা সদস্য এবং ব্যবসায়ী সমাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে,যা সামাজিক আস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য বড় ধাক্কা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ভিন্ন নয়।অভিযোগ অনুসারে,তাজুল ইসলাম জামাত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।এটি প্রমাণ করে,বিচারব্যবস্থা কেবল আইন প্রয়োগের জায়গা নয়, রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের লেনদেনের ক্ষেত্রেও রূপ নিতে পারে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও মারাত্মক।অভিযোগ অনুযায়ী,দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক এবং বিদেশে কোটি কোটি টাকা হাতানো হয়েছে।এর ফলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, এবং বিচারকে মানুষের ন্যায়বিচারের আশার প্রতীক হিসেবে দেখা থেকে বিরত করেছে।
আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য স্পষ্ট মেসেজ হলো—ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধুমাত্র আইন নয়, নৈতিকতা,স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা অপরিহার্য।ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হলে,জনগণের আস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একজন চীফ প্রসিকিউটরের এই ধরনের আচরণ আমাদের শিক্ষণীয় বার্তা দেয়—ক্ষমতার অপব্যবহার যদি দমন না করা হয়,তা সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে।এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ তদন্ত,স্বচ্ছ বিচার এবং দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার,যাতে ভবিষ্যতের জন্য বিচারব্যবস্থা পুনরায় আস্থার প্রতীক হতে পারে।


![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———