প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:১৮:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ চিকিৎসকের অবহেলায় মুক্তিযুদ্ধের বীর প্রতীক অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট রত্তন আলী শরিফ (৮২) মৃত্যুবরণ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা।এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে হাসপাতালের পঞ্চম তলার ৫০০৩ নম্বর কেবিনে তার মৃত্যু হয়।এর আগে শনিবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।রত্তন আলী শরিফ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মৃতের মেয়ে তানজিলা আক্তার ইমু অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন ধরে তার বাবার ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।ভর্তির পর কেবিনে একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরদিন রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আরেকজন চিকিৎসক এসে দেখেন।তবে দুপুরের দিকে তার বাবার অক্সিজেন লেভেল কমে যায় এবং ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, “এ অবস্থায় কয়েকবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডাকা হলেও তিনি কেবিনে যেতে অনিহা প্রকাশ করেন।বরং রোগীকে ওয়ার্ডে নিতে অথবা প্রাইভেট ক্লিনিকে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।বাবার অবস্থার অবনতি হলে আবারও ডাকতে যাই,তখনও চিকিৎসক আসেননি।পরে আমার এক বোন সিনিয়র সচিবকে ফোনে বিষয়টি জানালে চিকিৎসক কেবিনে যান।কিন্তু তখন গিয়ে দেখা যায়,আমার বাবা আর বেঁচে নেই।”
মৃতের ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন,“দেশের জন্য যুদ্ধ করা একজন বীর প্রতীক বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন—এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক।এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন,“রোগীকে আমার তত্ত্বাবধানে কেবিনে ভর্তি করা হয়েছিল।চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে এখনই বলা যাচ্ছে না।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
উল্লেখ্য,একজন মুক্তিযুদ্ধের বীরের মৃত্যুতে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ ওঠায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে নিহতের পরিবারসহ সচেতন মহল।













