প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:০৮:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এক গভীর উদ্বেগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—দেশ কি ধীরে ধীরে একটি পরিকল্পিত অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্ন এখন আর কেবল রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ নাগরিক,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বুদ্ধিজীবীদের মাঝেও তা আলোচিত।

‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’—একটি গুরুতর অভিযোগ
সমালোচকদের মতে,একটি সংগঠিত আদর্শিক গোষ্ঠী—যাদের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ—দেশের ভেতর ও বাইরে অবস্থান করে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
এই নির্দেশনাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ বক্তব্য, ভিডিও বার্তা ও উস্কানিমূলক কনটেন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।অনুসারীরা সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে—এমন অভিযোগও উঠছে।
এগুলো এখনো অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ; রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
রাষ্ট্রের নীরবতা: প্রশ্ন বাড়ছে
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে।সরকার কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ বা অবস্থান কেন আসছে না—এ নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে অভিযোগ রয়েছে—
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললেই কাউকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে-মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে।উগ্র বক্তব্য ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।
‘ডিজাইনড অরাজকতা’ তত্ত্ব
সমালোচকদের একটি অংশ মনে করে,বর্তমান পরিস্থিতি কোনো আকস্মিক বিশৃঙ্খলা নয়; বরং এটি একটি “ডিজাইনড অরাজকতা”—যেখানে রাষ্ট্রকে দুর্বল,বিভক্ত ও অনিশ্চিত করে তোলাই লক্ষ্য।
এই বিশ্লেষণে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে—রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল করা,সামাজিক বিভাজন বাড়ানো,সহিংস উগ্রবাদকে স্বাভাবিক করে তোলা,এবং শেষপর্যন্ত বাংলাদেশকে ইরাক,সিরিয়া, লিবিয়া বা গাজার মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতপূর্ণ বাস্তবতায় ঠেলে দেওয়া।
জামায়াত‑শিবির প্রসঙ্গ: পুরোনো ইতিহাস,নতুন অভিযোগ
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির ভূমিকা একটি প্রামাণ্য ও সংবেদনশীল অধ্যায়। বর্তমানেও অভিযোগ উঠছে—উগ্রপন্থী বক্তব্যকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।মব নৈরাজ্যকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।ধর্মীয় আবেগকে রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডায় কাজে লাগানো হচ্ছে।তবে এসব অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনি নিষ্পত্তি ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো রাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: রাষ্ট্র কোন পথে?
এই মুহূর্তে দেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হলো—
রাষ্ট্র কি নিরপেক্ষভাবে উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে?মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত থাকবে?মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি রাজনৈতিক ট্যাগের শিকার হবে?
উপসংহার
বাংলাদেশ কোনো ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার জন্য জন্ম নেয়নি।
কিন্তু ইতিহাস বলে—রাষ্ট্র যদি সময়মতো অবস্থান না নেয়, নীরবতাই সবচেয়ে বড় সহযোগী হয়ে ওঠে।
আজ প্রয়োজন—আইনের শাসন,প্রমাণভিত্তিক তদন্ত,উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতাএবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে আপসহীন রাষ্ট্রীয় অবস্থান।নচেৎ অনিশ্চয়তা কেবল আশঙ্কা থাকবে না—তা বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে।
















