নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাস চলাকালে আইনজীবীদের একাংশের হট্টগোল,ভাঙচুর ও বিচারকের প্রতি অসদাচরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।ঘটনাটিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত” উল্লেখ করে বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে বিচার কার্যক্রম চলাকালে একদল আইনজীবী আদালতকক্ষে বিশৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়,আদালতের ভেতরে বেঞ্চসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং দায়িত্বরত বিচারকের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়।পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস মূলতবি ঘোষণা করে খাসকামরায় চলে যেতে বাধ্য হন।এতে আদালতের স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালতের অভ্যন্তর ও বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশও করেন।
আদালত অবমাননার রুল
ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসার পর দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত অবমাননার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন।
একই সঙ্গে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪ ও ৫ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮ ও ৩৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে,বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের আইনের শাসনের অন্যতম ভিত্তি।আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইন ও বিচার বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,আদালত চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বিচারকের প্রতি অসদাচরণ এবং আদালতের সম্পত্তি ভাঙচুর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।এ ধরনের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা ছাড়াও আদালত অবমাননার পৃথক বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে পারে,যার শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে,বিচারাঙ্গনে সহিংসতা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———