নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি শাখার ইন্সপেক্টর ছগির হোসেনকে ঘিরে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
স্থানীয় মহল,ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি—হোটেল ব্যবসায় গোপন অংশীদারিত্ব,জুয়া ও মাদক কারবারে প্রভাব বিস্তার,অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার দৃশ্যমান মুখ হিসেবে সামনে রয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ী মো. মানিক।
অভিযোগগুলো এখন আর গুঞ্জনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুলিশ সদর দফতর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের নীরবতা নিয়েই জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ।
ডিবি কর্মকর্তার নামে হোটেল মালিকানার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি,নগরীর গীর্জা মহল্লার হোটেল ইমপেরিয়াল, পোর্ট রোডের হোটেল রোদেলা এবং সদর রোডের বিবির পুকুরপাড়ের হোটেল সামস—এই তিনটি আবাসিক হোটেলে শেয়ার মালিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন ইন্সপেক্টর ছগির।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে,প্রতিটি হোটেলে অংশীদার হতে প্রয়োজন কয়েক কোটি টাকার বিনিয়োগ।ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বেতনে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এত বিপুল বিনিয়োগের উৎস কী?
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ,ঘোষিত আয় ও বাস্তব সম্পদের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে,যা তদন্ত ছাড়া পরিষ্কার হওয়া সম্ভব নয়।
সামনে মানিক,নিয়ন্ত্রণে কে?
স্থানীয়দের দাবি, মো. মানিক বর্তমানে কয়েকটি হোটেলের দৃশ্যমান মালিক হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ অন্যত্র।একসময় হোটেলের কর্মচারী থাকা মানিকের অল্প সময়ে একাধিক ব্যবসার মালিক হয়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নিলেই প্রভাবশালী মহল থেকে চাপ আসে।
জুয়া,মাদক ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কক্ষে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে এবং প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার লেনদেন হয়।পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা,সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং কক্ষভিত্তিক অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
আরও গুরুতর অভিযোগ—কিছু ক্ষেত্রে আটক মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং জব্দ তালিকায় অসঙ্গতি রেখে মাদক গোপনে বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নগরজুড়ে আবাসিক হোটেল এখন অপরাধের আশ্রয়স্থল?
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে,বরিশাল নগরীর বহু আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্যে দেহব্যবসা,মাদক লেনদেন ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে।অভিযোগ রয়েছে—প্রেমিক-প্রেমিকার আড়ালে সংগঠিত হচ্ছে দালাল চক্র,নারী পাচার,ব্ল্যাকমেইল এবং পর্নোগ্রাফি তৈরি করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধ।
স্থানীয়দের ভাষায়, “সবাই জানে কোথায় কী হয়,কিন্তু কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
অভিভাবকদের উদ্বেগ—স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ ক্রমেই এসব অপরাধচক্রের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে।
কর ফাঁকি ও লাইসেন্স অনিয়মের অভিযোগ
হোটেলগুলোর আয়-ব্যয়,ভ্যাট পরিশোধ এবং লাইসেন্স নবায়নে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,সম্পদের উৎস,ব্যাংক হিসাব ও কর নথি একযোগে তদন্ত না করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না।
প্রশাসনের বক্তব্য
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম বলেন,
“সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন জানান,
“নগরীতে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।”
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“অপরাধী যেই হোক,আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
প্রশ্ন এখন একটাই
নগরবাসীর প্রশ্ন—এত অভিযোগ,এত নাম,এত ঘটনার পরও যদি স্বপ্রণোদিত তদন্ত না হয়,তাহলে আইন কি সবার জন্য সমান?
এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়,
“আইনের রক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত না হওয়া মানে সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধ্বংস করা।”
দাবি: উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত
সচেতন মহল মনে করছে,পুলিশ সদর দফতর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক ও এনবিআরের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে—
সম্পদের উৎস
হোটেল মালিকানার শেয়ার
কর নথি
মাদক ও জুয়া সংশ্লিষ্ট অভিযোগ
একসাথে যাচাই করা জরুরি।
কারণ, অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা—তদন্ত ছাড়া নীরবতা শুধু সন্দেহই বাড়ায়, আর সেই সন্দেহের বোঝা বহন করতে হয় পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই।
![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———