প্রতিনিধি ৯ আগস্ট ২০২৩ , ৩:৫৫:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল জেলা প্রতিনিধি॥নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড পুলিশ লাইন আমবাগান সংলগ্ন এলাকায় ১৯৭৭ সালে ৪১৬/৭০ ভিপি কেস মূলে ৪.৭৫ শতাংশ জমির লিজ প্রাপ্ত মালিক হন মোঃ আ: রাজ্জাক।তার মৃত্যুর পর ওই সম্পতির ডি.সি.আর কাটা নিয়ে মরহুমের ১ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী ঔ ভিপি সম্পত্তির অর্ধেক জমি বুঝে না পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মৃত আ: রাজ্জাক এর ছেলে মোঃ নুরুল ইসলাম (নান্টু)। ৯ আগষ্ট (বুধবার) সকাল ১১ টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে নুরুল ইসলাম নান্টু বলেন,বাবার-মায়ের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে আমরা ১ ভাই ২ বোন সম্পত্তি পেতে চাই। উক্ত সম্পত্তিতে আমি নিজেই ভোগ দখলে ছিলাম এবং বর্তমানেও রয়েছি। আমি বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভি.পি শাখায় ডি.সি.আর কাটানোর জন্য গেলে অফিস সহকারী ফারুক হোসেন আমাকে বলে,আপনাকে উক্ত সম্পত্তির ৩ ভাগের ১ ভাগ ডি.সি. আর কেটে দেয়া যেতে পারে।এ কথা শুনে আমি গত ০২/০২/২০১৭ইং তারিখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে একটি মামলা দায়ের করি।গত ২৮/০১/২০১৯ইং তারিখে বিচারক রায় প্রদান করেন।রায়ের আদেশে উল্লেখ থাকে,আমার পিতা আঃ রাজ্জাক এর মৃত্যুর পরে হিস্যা অনুযায়ী ওয়ারীশদের মধ্যে প্রাপ্য ও দখল সরজমিনে পরিমাপ করে অংশ বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের রায়ে আমার বাবার মৃত্যুর পরে হিস্যা অনুযায়ী ১ ভাই হিসেবে আমি নিজেই সম্পত্তির অর্ধেক পাবো এবং বাকি অর্ধেক ২ বোন পাবে।এই আদেশের কপি ভি.পি শাখায় জমা দিলে অফিস সহকারী ফারুক হোসেন আমাকে বলে,মোটা অংকের টাকা ছাড়া এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।তাতে রায়ের কপি যতই থাকুক না কেন আমার টেবিল থেকে কোন কাজ হবে না। মাল না দিলে ওই রায়ের আদেশ অনুযায়ী ডি.সি.আর কেটে দেয়া অসম্ভব।
উপায়ন্ত না পেয়ে আমি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার আদালতে গত ০৯/২০১৯ইং তারিখ উপরোক্ত রায়ের অনুকূলে একটি আপিল দায়ের করি। গত ১৪/১২/২০২০ইং তারিখে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে পূর্বের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্থ্য) এর রায় বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।কিন্তু বরিশাল জেলা প্রসাশক কার্যালয়ের ভি.পি শাখায় অফিস সহকারী ফারুক হোসেন কে মোটা অংকের অর্থ না দেয়ায় পৃথক আদালতের আদেশ ২টিকে বাদ দিয়ে বিচারকের নির্দেশ না মেনে তিনি তার মনগড়া কার্যক্রম সম্পন্ন করে।কয়েক বছর ঘুরার পর অফিস সহকারী ফারুক হোসেন ভয় দেখিয়ে আমাকে বলে, আপনি যদি ৩ ভাগের ১ ভাগ ডি.সি.আর কেটে হাতে না রাখেন, তাহলে ডি.সি.আর বকেয়া দেখিয়ে ভি.পি সম্পত্তির উপর বসবাস করা স্থান থেকে আপনাকে উচ্ছেদ করব।অফিস সহকারী ফারুক হোসেনের হুমকির মুখে বাধ্য হয়ে বকেয়া বছরের ডি. সি. আর ২ বছরের কেটে আপডেট করে রাখি।প্রতি দুই বছরের বাংলা সন ১৪২৬ ও ১৪২৭ সনের ডি. সি আর লেখা আছে ১৯হাজার ৭৪২টাকা এর সাথে আমাকে ঘুষ গুনতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।একইভাবে ১৪২৮ ও ১৪২৯ সনের ডি. সি আর লেখা আছে ১৯ হাজার ৭৪২টাকা লেখা থাকলেও আবারো আমার ঘুষ দিতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।এই ৫০ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে নিয়েছে অফিস সহকারী ফারুক হোসেন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, আমি এই ৫০হাজার টাকা পুরোটাই ডিসি স্যারের ফান্ডে জমা হবে। আমি ১ পয়সাও পাব না।তবে স্যারে খুশি হয়ে আমাকে কিছু দিলে পেতে পারি।
সর্বশেষ আমি জানতে পারি,উপরোক্ত সকল কার্যক্রমের কলকাঠি নেড়েছে আমার বড় বোনের স্বামী আজিজুর রহমান শাহিন।অফিস সহকারী ফারুক হোসেনকে ম্যানেজ করে নিয়েছে আমার ওই দুলাভাই।
তারপরও আমি গত ০৪/০৩/২০২১ইং তারিখে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর হিস্যা অনুযায়ী ওয়ারীশদের মধ্যে বন্টণের জন্য লিখিত আবেদন করি।কিন্ত কোন ফলাফল পাইনি। জেলা প্রশাসকের বুধবারের গনশুনানীতে বহুবার অংশগ্রহণ করেও ডিসি স্যারের দেখা পাইনি।এরপর গত ১৭/১০/২০২২ই তারিখে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর অফিস ও বাসভবনের ঠিকানায় ডাকযোগে চিঠি দেই। একই তারিখে বিভাগীয় কমিশনার,অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) অফিস ও বাসভবনের ঠিকানায় ডাকযোগে চিঠি দেই।কিন্ত কোন ফলাফল পাইনি।এরপর আমি গত ২৩/০৫/২০২৩ইং তারিখে বরিশাল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করি।একই তারিখে আমি তথ্য অধিকার আইনে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর তথ্য চেয়ে লিখিত আবেদন করি।আবেদনে উল্লেখ থাকে,আদালতের দুটি রায় থাকার পরও ডি.সি.আর কেন কাটা হবে না? এ তথ্য চেয়ে আমি কোন তথ্য পাইনি।তারপর আমি ১৮/০৬/২০২৩ইং তারিখে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের আয়োজিত গণশুনানিতে অংশ নেই।সেখানে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভি.পি শাখায় অফিস সহকারী ফারুক হোসেন ও আমাকে ডাকা হয়।ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ( অনুসন্ধান) ড. মোঃ মোজ্জাম্মেল হক খান বিষয়টি শুনে বলেন,বিষয়টি বরিশাল জেলা প্রশাসক দেখবেন।এরপর গত ২২/০৬/২০২৩ইং তারিখে আমি বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন স্যারের সাথে দেখা করি।তিনি আমাকে বলেছেন,আপিনসহ আপনার ২ বোনকে ডেকে বিষয়টি শুনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।তারপর আমাকে আর ডাকা হয়নি।
এরপর আমি গত ২৭/০৭/২০২৩ইং তারিখে আইনজীবী মোঃ আজাদ রহমান এর মাধ্যমে ৩ জনকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করি।তারা হলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালেয়ের সহকারী কমিশনার অর্পিত সেল।আবার এই লিগ্যাল নোটিশের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়,ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কে।তারপরও কোন ফলাফল পাইনি বিধায় সংবাদ সম্মেলন করছি।












