মাজহারুল ইসলাম।।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুধু একটি স্থানীয় তুচ্ছ বিরোধ নয়; এটি দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া,আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি সর্তকবার্তা।আদালতে প্রবেশ করে বেঞ্চ,টেবিল,মাইক্রোফোন ভাঙচুর করা, বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপর হুমকি প্রদর্শন এবং বিচার প্রার্থীদের আতঙ্কিত করা একেবারেই অনভিপ্রেত।
আইনের প্রতি এমন অবহেলা শুধুই বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য বিপদজনক নয়,বরং সামাজিক আস্থা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ইতোমধ্যে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে এবং পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার,রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা, যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনা করা জরুরি।বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই ঘটনা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা সমাজে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং দেশের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে।রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে সহিংসতা চালানো থেকে বিরত থাকা।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।সচেতন নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের যথাযথ নজরদারি,বাস্তব তথ্যের প্রচার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বরিশালের ঘটনা প্রমাণ করে,রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারে।সুতরাং,সরকারের,আদালতের এবং জনগণের একত্রিত সচেতনতার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং বিচারিক শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা আবশ্যক।অন্যথায়,এই ধরনের সহিংসতা কেবল বিচারিক শৃঙ্খলাকে নয়,সমাজের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে।
![]()



















































সর্বশেষ সংবাদ :———