অপরাধ-আইন-আদালত

ববির শিক্ষার্থী উর্মির ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন-হাইকোর্ট

  প্রতিনিধি ১২ জুলাই ২০২৫ , ৬:০৮:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মির ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।আদালতের আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জান্নাতুল নওরীন উর্মির ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত।

একই সঙ্গে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে তাকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ কেন দেওয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টাদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতিমা নাজিব ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।গত ৭ জুলাই আদেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানা যায়।

এর আগে ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার দাবিতে জান্নাতুল নওরীন উর্মি হাইকোর্টে রিট করেন।ওই রিটের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন উচ্চ আদালত।

জান্নাতুল নওরীন উর্মি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।২০১৬-১৭ সেশনে ক্লাস শুরু করে ২য় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেন।আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও এ বিষয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল।এরপর তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে বাধা দেয় এবং শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করলে তার বাবা ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর ২০২০ সালের ১ মার্চ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নওরিনের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ।এ নিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।ওই ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে থাকার কারণে পরবর্তীতে ফাইনাল পরীক্ষা চললেও নওরীন পরীক্ষায় বসতে পারেননি।সে সময়ও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করেছিলেন।তবে জড়িতরা আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় তিনি বিচার পাননি।

এ বিষয়ে জান্নাতুল নওরীন উর্মী বলেন,আমি শুধু আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম।কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমাকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।বহুবার অনুরোধ করেও যখন কোনো সমাধান পাইনি, তখন বাধ্য হয়ে আদালতে আসি।

নওরীনের আইনজীবী মো. জিয়াউর রহমান বলেন,বিচারিক আদালতের এই আদেশে আমরা সন্তুষ্ট।আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত নওরীনকে পুনরায় পড়াশোনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে।

মো. জিয়াউর রহমান বলেন,বিচারিক আদালতের এই আদেশে আমরা সন্তুষ্ট।আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত নওরীনকে পুনরায় পড়াশোনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে।

আরও খবর

Sponsered content