প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:৪৬:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা প্রতিনিধি।।বিগত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে দৌলতপুর থানার আকস্মিক পরিদর্শনে যান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ জাহিদুল হাসান,বিপিএম (সেবা)। পরিদর্শনকালে তিনি নজরে পান হিজাব পরিহিতা এক নারীকে,যিনি নারী হাজতখানায় আছেন।তদন্তে জানা যায়, এটি এক বিরল ও মানবিক গল্পের প্রেক্ষাপট।

মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভূপালের ব্লু মুন কলোনির ২১ বছর বয়সী ফারিন আলী তাঁর প্রেমিক তাসিনের সাথে সম্পর্কের গভীরতা পূর্ণ করতে বাংলাদেশে আসেন।ছয় বছর ধরে মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় থাকা ফারিন,বৈধ পাসপোর্ট বা যেকোনো ট্রাভেল অনুমতি ছাড়া প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিলেট হয়ে খুলনায় পৌঁছান।শেষ পর্যন্ত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৯৯৯ কলের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফারিনকে দৌলতপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়।ফারিন তখন একেবারেই অসহায় এবং একমাত্র ভাষা হিসেবে হিন্দি ব্যবহার করতে সক্ষম।পুলিশের নজরে এলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জনাব মোঃ জাহিদুল হাসান সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন।
কমিশনার মহোদয় অবিলম্বে বিজ্ঞ আইনজীবী,বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি),ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ফারিনের মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।এতে ফারিনের স্বামী ও শাশুড়ির আবেগপ্রবণ আকুতি কিছুটা প্রশমিত হয়।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে,আইনের কাঠিন্য থাকা সত্ত্বেও মানবিক বিবেচনা ও দায়িত্ববোধ কখনও অপ্রয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকে না।খুলনা পুলিশের এই পদক্ষেপ অনুপ্রেরণা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে আদালত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফারিনের অবস্থার একটি সুন্দর সমাধান আশা করা হচ্ছে।
আইনি-বিশ্লেষণ:
ফারিনের বাংলাদেশে প্রবেশ বৈধ না হলেও, পুলিশের মানবিক হস্তক্ষেপ “ভিকটিম সাপোর্ট নীতি” প্রয়োগের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।আইন অনুযায়ী এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি অপরাধ হলেও,পুলিশের দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ আইন ও নৈতিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।













