রাজনীতি

প্রভাবশালী সুপারিশ, ক্ষমতার বলয় ও বিতর্কিত উত্থান: এক চিকিৎসক নেত্রীর পথচলার প্রশ্নবিদ্ধ অধ্যায়

  প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:২০:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাবশালী সুপারিশ, ক্ষমতার বলয় ও বিতর্কিত উত্থান: এক চিকিৎসক নেত্রীর পথচলার প্রশ্নবিদ্ধ অধ্যায়

অনুসন্ধানী রিপোর্ট।।বাংলাদেশের গণমাধ্যম,চিকিৎসা ও রাজনীতির পরিমণ্ডলে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত এক নারী চিকিৎসক ও রাজনৈতিক নেত্রীর উত্থান ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক নতুন করে সামনে আসছে।তাঁর প্রাথমিক জীবন, পেশাগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে পুরনো কিছু ঘটনা আবার আলোচনায় ফিরেছে।

গণমাধ্যমে প্রবেশের চেষ্টা ও সেনা-রেফারেন্স

২০১১ সালের শুরুতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থাপক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের এক প্রোগ্রামকর্মী। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী,ধানমন্ডির একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত এক তরুণী চিকিৎসা শিক্ষার্থী একটি উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার সুপারিশে চ্যানেলে অডিশনে অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,অডিশন বোর্ডে পাঠানোর আগে ওই শিক্ষার্থী নিজেই প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তার রেফারেন্সের কথা উল্লেখ করেন।তবে অডিশনের পর উপস্থাপনার মান ও ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়নি।

পুরনো একটি সহিংসতার অভিযোগ

অডিশনের কিছুদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে একটি ঘটনা আলোচনায় আসে—এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে এক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।সে সময় প্রকাশিত ছবির সঙ্গে অডিশনে অংশ নেওয়া ওই শিক্ষার্থীর চেহারার মিল দেখে অনেকেই বিস্মিত হন।

যদিও ওই ঘটনায় পরবর্তীতে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল,সে বিষয়ে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য তথ্য খুব সীমিত।

সুপারিশ সংস্কৃতি ও নীরবতা

চ্যানেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানান, ওই শিক্ষার্থীকে অডিশনের সুযোগ দেওয়ার পেছনে ছিল ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সুপারিশ।প্রত্যক্ষভাবে ‘না’ বলতে না পারায় তাঁকে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বাদ দেওয়া হয়—যা দেশের বহু প্রতিষ্ঠানেই প্রচলিত এক নীরব বাস্তবতা।

এই ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও পেশাগত ক্ষেত্রে সুপারিশ-নির্ভর সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রভাবশালীদের অদৃশ্য চাপ নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

ধর্মীয় বয়ান ও রাজনৈতিক উত্থান

পরবর্তী সময়ে ওই চিকিৎসক বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তব্য,সামাজিক সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন পরিচিতি লাভ করেন। একসময় চিকিৎসা পেশার বাইরে এসে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক পরিসরে যুক্ত হন এবং বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত।

সমালোচকদের মতে,তাঁর বক্তব্য ও বয়ানে অতীত অবস্থান ও বর্তমান রাজনৈতিক ভাষ্যের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যায়।আবার সমর্থকদের দাবি,তিনি “পরিবর্তিত ও সচেতন নাগরিক” হিসেবে সমাজে ভূমিকা রাখছেন।

প্রশ্নগুলো থেকেই যায়

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে—

প্রভাবশালী সুপারিশ কতটা সহজ করে দেয় পেশাগত দরজা?

সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ কি যথাযথভাবে তদন্ত হয়?

ধর্মীয় ও নৈতিক বয়ান দেওয়া ব্যক্তিদের অতীত ভূমিকা কি জনস্বার্থে যাচাই হওয়া উচিত?

রাজনৈতিক নেতৃত্বে ওঠার ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা কতটা নিশ্চিত করা হয়?

আরও খবর

Sponsered content