সম্পাদকীয়

প্রধান ভোটদাতা শক্তি অনুপস্থিত,“জাতীয় ঐক্য” ভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ

  প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:১৭:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার জন্য প্রতিটি নির্বাচনের ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণস্বরূপ কাজ করে।সাম্প্রতিক ইউনুসের “জাতীয় ঐক্য” ভোট কিন্তু এক ধরনের ব্যতিক্রম।চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ এবং জাপা জোটের অনুপস্থিতি ভোট প্রক্রিয়ার মূল বাস্তবতা ধরতে ব্যর্থ করেছে।

ইতিহাস স্পষ্ট
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-জাপা জোট ভোটের প্রায় ৬০% অংশ ধারণ করেছিল।তাদের অনুপস্থিতিতে কোনো জোট বা উদ্যোগ ভোটের প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে না।প্রধান ভোটদাতারা অনুপস্থিত থাকায় ভোটের ফলাফল পক্ষপাতপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং সেটি বৈধতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন,যদি ভোটের এই ধরনের বৈশিষ্ট্য আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিয়মে নিয়মিত হয়ে যায়,তবে তা অর্ধগণতান্ত্রিক বা আংশিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মতো হয়ে যাবে।ভোটের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অতএব,যেকোনো ভোট প্রক্রিয়া বৈধ ও গণতান্ত্রিক হতে হলে মূল রাজনৈতিক শক্তি এবং ভোটদাতাদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।“জাতীয় ঐক্য” ভোটের ফলাফল তাই কেবল পরিসংখ্যানগত নয়,বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।আমাদের উচিত হবে,নির্বাচনের কাঠামো এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে ভোটের প্রতিটি অংশীদার নিজ নিজ ভোট শক্তি দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content