প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:০৮:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ডেস্ক রিপোর্ট।।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীকী ব্যালটে ৫৮টি প্রতীক সংযুক্ত হওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। বিশেষ করে ব্যালট পেপারে সর্বপ্রথম স্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং ধানের শীষ তুলনামূলকভাবে ছোট আকারে প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও পোস্টে দাবি করা হচ্ছে,সব আসনে একই ব্যালটে ৫৮টি প্রতীক রাখা হচ্ছে এবং প্রতীকের আকার ও অবস্থান নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে।তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী,ব্যালট পেপার আসনভিত্তিক হয়ে থাকে। প্রতিটি আসনে যেসব প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন,কেবল তাদের প্রতীকই সংশ্লিষ্ট ব্যালটে থাকবে।বাস্তবে প্রতিটি আসনে গড়ে ৫ থেকে ৬ জন প্রার্থী থাকেন।ফলে একটি ব্যালটে সর্বোচ্চ ৬টির বেশি প্রতীক থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ৫৮টি প্রতীকের ব্যালট মূলত একটি প্রতীক তালিকা বা নমুনা,যা বাস্তব ব্যালট পেপারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
আইনি বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের Representation of the People Order (RPO),1972 এবং নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী—
১. আসনভিত্তিক ব্যালট বাধ্যতামূলক
আইন অনুযায়ী প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য আলাদা ব্যালট পেপার ছাপানো হয়।সব প্রতীক একসঙ্গে দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কোনো একক ব্যালট ব্যবহারের সুযোগ নেই।
২. প্রতীকের অবস্থান ও আকারে সমতা নিশ্চিত করার বিধান
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী,ব্যালট পেপারে প্রতীকগুলোর আকার,ফন্ট ও ছাপার মানে সমতা বজায় রাখতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রতীক বড় বা ছোট করার সুযোগ আইনত নেই।
৩. প্রতীক তালিকা বনাম ব্যালট পেপার
নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত প্রতীক তালিকা প্রকাশ করে,যেখানে নিবন্ধিত সব প্রতীক থাকে। এটি ব্যালট পেপার নয়—আইনগতভাবে এ দুটি এক নয়।
৪. বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার শাস্তিযোগ্য
নির্বাচন আইন অনুযায়ী,ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে তা নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আইনজ্ঞদের মতে,প্রতীকী ব্যালট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব দাবি ছড়ানো হচ্ছে,সেগুলোর অধিকাংশই আইনগত ভিত্তিহীন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার থেকে উৎসারিত।
















