রাজনীতি

প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে: তারেক রহমান

  প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:০৩:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন কখনোই দেশকে বিভক্তির পথে ঠেলে না দেয়।

শনিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান।

তারেক রহমান বলেন,বিএনপি হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে চায়।তিনি বলেন,“আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, আরেক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা এবং তৃতীয় পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট।এসব ঘটনা সামনে রাখলে বোঝা যায়,আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”

দেশ বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনায় যে মূল্য দিয়েছে,তা রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে হবে।

সব রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন,“মতপার্থক্য থাকতেই পারে,কিন্তু তা যেন মতবিভেদ বা জাতিকে বিভক্ত করার পর্যায়ে না যায়। ৫ আগস্টে আমরা দেখেছি,এর পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে।”

নতুন প্রজন্মসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে আশার খোঁজ রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন,দেশবাসী এখন একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা করছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,“গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন।তবে শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়—এমন সমালোচনা চাই,যা দেশের সমস্যার সমাধানে সহায়ক হয়।”

দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,মানুষের প্রত্যাশা রাজনীতিবিদদের প্রতি অনেক বেশি। সব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব না হলেও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের।

কৃষকদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,দেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষকের জন্য ‘অ্যাগ্রি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। “যাঁরা ২০ কোটি মানুষের খাদ্য জোগান দেন,তাঁদের সমস্যাগুলো আমাদেরই জানতে হবে,” বলেন তিনি।

নারীশিক্ষায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান,বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রতিরোধমূলক (প্রিভেনশন) ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন,সচেতনতা বাড়ানো গেলে কিডনি,হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান,দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী,নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর,কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ,যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার,ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন,আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান,প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকরা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content