প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:১৪:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো নীতিগতভাবে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে একমত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশই এই প্রতিশ্রুতি মানেনি।ফলে এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।তাঁদের মধ্যে নারী ছিলেন ১০৯ জন।প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্তভাবে কতজন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন,তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন আসনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে,শেষ পর্যন্ত নারী প্রার্থীর সংখ্যা আরও কমেছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,বিএনপি ২৮৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।এর মধ্যে নারী মাত্র ১০ জন,যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়েও দলটি তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন,নারীর মনোনয়ন কম হওয়া সত্যি,তবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিতে হয়।তাঁর মতে,রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে নিতে দলগুলোকে আরও সুযোগ দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে,জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান,নীতিগত বিষয়ে একমত না হওয়া, যোগ্য নারী প্রার্থী না পাওয়া এবং অনেক নারীর নির্বাচনে আগ্রহ না থাকার কারণে এবার নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি।তবে ভবিষ্যতে নারী প্রার্থী রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
জাতীয় পার্টিও প্রায় একই পথে হেঁটেছে।দলটি ১৯৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও নারী প্রার্থী মাত্র ৬ জন,যা মোটের প্রায় ৩ শতাংশ।দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ভীতিকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক নারী প্রার্থী হতে আগ্রহী হননি।
জোট রাজনীতির কারণে তুলনামূলক ছোট দলগুলোতেও নারী প্রার্থী বাদ পড়েছে।জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) শুরুতে নারী প্রার্থী দিলেও আসন সমঝোতার শেষ মুহূর্তে তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়েছে।
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন,কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের বিষয়টি একটি ‘জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট’ ছিল।প্রতিশ্রুতি দিয়েও দলগুলো তা পূরণ না করায় তিনি দুঃখিত ও ব্যথিত বলে মন্তব্য করেন।
নারী অধিকারকর্মীরাও এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন।গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন,১৯৯১ সালের পর জাতীয় নির্বাচনে এত কমসংখ্যক নারীকে মনোনয়ন দিতে দেখা যায়নি।তাঁর প্রশ্ন, “আমরা কি তাহলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পেছনের দিকে হাঁটছি?”
সব মিলিয়ে,এবারের নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়াকে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

















