নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা প্রশিকা মোড় এলাকায় একটি এনজিওভিত্তিক ঋণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পোল্ট্রি খামারিদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী,প্রতিষ্ঠানটির এরিয়া ম্যানেজার নতুন ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আগাম কিস্তি আদায় করলেও পরে ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানান,ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন একাধিক খামারি।
ভুক্তভোগী পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা জানান,তারা পূর্বে নেওয়া প্রায় ৩ লাখ টাকার ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছিলেন। তখনও ৩ থেকে ৪টি কিস্তি বাকি থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাদেরকে নতুন করে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।ওই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে খামারিদের কাছ থেকে একসঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার টাকা কিস্তি হিসেবে আদায় করা হয়।
খামারিদের দাবি,গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরানোর পর অবশেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট এরিয়া ম্যানেজার।এতে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।
আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,কোনো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান যদি ঋণ প্রদানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কিস্তি বা অর্থ আদায় করে,তবে তা প্রতারণা (Cheating) হিসেবে গণ্য হতে পারে।বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪১৫ ও ৪২০ ধারার আওতায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া বাংলাদেশে নিবন্ধিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো Microcredit Regulatory Authority (MRA)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন।গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণ,জোরপূর্বক কিস্তি আদায় বা বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এ অভিযোগ করতে পারেন।মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা বিভ্রান্তিকর সেবার মাধ্যমে অর্থ আদায় ভোক্তা অধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
আইনজীবীদের মতে,আদালতের বাইরে সমাধানের জন্য প্রথমে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেমে লিখিত অভিযোগ দেওয়া যেতে পারে।তাতে সমাধান না হলে Money-Lenders Act, 1940 অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া সম্ভব।
করণীয়
বিশেষজ্ঞরা ভুক্তভোগীদের সকল লোন চুক্তিপত্র,কিস্তি জমার রসিদ,মোবাইল মেসেজ,অডিও বা লিখিত প্রতিশ্রুতির প্রমাণ সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থায় লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত তদন্ত শুরু হতে পারে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
![]()





































সর্বশেষ সংবাদ :———