নিজস্ব প্রতিবেদক।।সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক (Proportional Representation–PR) নির্বাচনী ব্যবস্থা। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের শতকরা হার ও আসন সংখ্যার বড় ব্যবধান বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে।
প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে দেখা যায়,নির্বাচনে বিএনপি জোট পেয়েছে প্রায় ৪৬.৬ শতাংশ এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৪৩.৯ শতাংশ ভোট।দুই জোটের মধ্যে ভোটের পার্থক্য মাত্র ২.৭ শতাংশ হলেও আসনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৩৫টি (২১২ বনাম ৭৭),যা রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী,যদি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে সম্ভাব্যভাবে বিএনপি জোট পেত প্রায় ১৪১টি আসন এবং জামায়াত জোট পেত ১৩২টি আসন।সে ক্ষেত্রে সরকার গঠনে স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত এবং সংসদে একতরফাভাবে আইন পাস করা কঠিন হতো বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে,কিছু আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক ভোটারের মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয়নি।উদাহরণ হিসেবে একটি আসনে মাত্র ৭০ ভোটের ব্যবধানে পরাজয় এবং প্রায় ৫৩টি আসনে ২ থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, সম্ভাব্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু করে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে বিএনপির প্রায় ৪৭ জন এবং জামায়াতের ৪৪ জন সদস্য থাকার সম্ভাবনার কথাও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিল ও নীতিনির্ধারণে প্রতিযোগিতামূলক ও তথ্যনির্ভর বিতর্ক বাড়তে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,বর্তমানে দেশের অধিকাংশ আসনেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক কম।ফলে পিআর পদ্ধতি রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারলেও স্থিতিশীল সরকার গঠনের প্রশ্নে সংশয় রয়ে গেছে—যা নিয়ে অতীতে বিএনপির পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
এছাড়া সংসদে প্রজন্মগত বৈচিত্র্যও একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে পারত।বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের বড় অংশ প্রবীণ রাজনীতিবিদ হলেও জামায়াত জোটে তুলনামূলকভাবে নবীন ও সাবেক ছাত্রনেতাদের উপস্থিতি বেশি বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
![]()











































সর্বশেষ সংবাদ :———