সারাদেশ

তিনদিন পর নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক

  প্রতিনিধি ২৫ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:৩৩:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় পঞ্চবটি-মুক্তারপুর উড়ালসড়ক পাইলিংয়ের সময় ফেটে যাওয়া তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন তিন দিন পর মেরামত করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।এতে টানা তিন দিন ভোগান্তিতে থাকা আবাসিক ও শিল্প-গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন,আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ফেটে যাওয়া প্রধান পাইপলাইন মেরামত শেষে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে।তিনি বলেন,মাটির ২৫ ফুট গভীরে দুটি স্থানে পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় মেরামত করতে বেগ পেতে হয়েছে। মাটি খননের সময় বারবার মাটি ধসে পড়ছিল।পরে লোহার পাত দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে পাইপলাইন মেরামত শেষে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে।বর্তমানে আবাসিক ও শিল্প গ্রাহক সবাই গ্যাস পাচ্ছেন।

গত শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের শাসনগাঁও এলাকায় পঞ্চবটি-মুক্তারপুর উড়ালসড়কের পাইলিংয়ের সময় মাটির গভীরে থাকা পাইপে আঘাত লাগে।এতে পাইপ ফেটে গ্যাস বের হতে থাকে। দুর্ঘটনা এড়াতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বড় অংশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।এতে হাজার হাজার আবাসিক ও শিল্প-গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েন।তাঁদের বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে।অনেককে লাকড়ির চুলা,ইলেকট্রিক চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডারে রান্নার কাজ সারতে হয়েছে।এতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছে।

দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকার বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ কলেজের প্রভাষক ফারজানা আফরোজ বলেন,তিনদিন পর চুলায় গ্যাস এসেছে।এই কয়েক দিন গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের একটি ডাইং কারখানার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন,তাঁদের কারখানা পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর হওয়ায় ডাইং,সুইং,প্রিন্টিং ও ফিনিশিংসহ সব শাখার কাজ বন্ধ ছিল। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানির সময়সূচি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শুধু পোশাক ও ডাইং কারখানা নয়,রি-রোলিং মিল,স্পিনিং মিলসহ হাজারো শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।কাজ বন্ধ থাকায় উৎপাদনভিত্তিক মজুরিতে কাজ করা শ্রমিকদের এই তিন দিনে আয় কমে বিপাকে পড়তে হয়েছে।

এলাকাবাসী ও শিল্পমালিকদের অভিযোগ,পঞ্চবটি-মুক্তারপুর উড়ালসড়কের পাইলিংয়ের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অসতর্কতা,অবহেলা ও তিতাস গ্যাসের গাফিলতির কারণে গত এক বছরে ২৮ বার গ্যাসের প্রধান পাইপলাইন ফেটে গেছে। তবে এবার টানা তিন দিন সরবরাহ বন্ধ থাকা একটি নতুন রেকর্ড।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, উড়ালসড়কের কাজের স্থানে তিতাসের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিয়মিত উপস্থিত থাকেন।তিনি আশা প্রকাশ করেন,ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহে আর কোনো সমস্যা হবে না।

আরও খবর

Sponsered content