নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রায় প্রতিনিয়তই শোনা যাচ্ছে যে নবম জাতীয় পে স্কেল অতিশীঘ্রই ঘোষণা হবে।কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নতুন পে স্কেলের ঘোষণা আসতেছে না।এদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে সকল সরকারি চাকরিজিবি গণ অনেক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কারণ ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তারা একই বেতন ভাতার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।কিন্তু এদিকে সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদের দাম হু হু করে বেড়েই চলেছে। যার কারণে সকল সরকারি চাকরিজীবীগণ তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে।এজন্য তারা বিভিন্ন রকম আন্দোলন বা জোরদার দাবি জানাচ্ছে নতুন পে স্কেল সময়ের দাবি।দাবী গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বর্তমান ২০টি বেতন গ্রেড বাদ দিয়ে সর্বমোট ১২টি করতে হবে।এছাড়াও প্রতিবছর ১০% করে ইনক্রিমেন্ট প্রদান করতে হবে।বিদ্যুৎ বিল,গ্যাস বিল সহ আরো অন্যান্য সুবিধা দিয়ে প্রদান করতে হবে। ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের কোন বেতন স্কেল বাড়ানো হয়নি।দ্রব্যমূল্যের দাম দ্বিগুণ এর চাইতেও বেশি হবার পরেও তাদের বেতন আগের মতই রয়ে গেছে।এ কারণে তারা গভীর হতাশ।এদিকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কেমন হওয়া উচিত,তা নিয়ে নিজেদের মতো করে ভাবনা-চিন্তা করছেন সরকারি কর্মচারীরা। ইমরান হোসেন নামে একজন ফেসবুকে তুলে ধরেছেন ‘৯ম জাতীয় পে-স্কেল এমন হওয়া চাই’।তিনি সর্বমোট ১৫ টি পয়েন্ট তুলে ধরেছে।তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:– ১) বেতন গ্রেড হতে হবে ১২ টি।বেতনের অনুপাত হতে হবে ১:৫। যেমন:- ১ম শ্রেণী:— গ্রেড-১ ————————————– = ১০১০০০ গ্রেড-২ (পূর্বের ২,৩ গ্রেড)————— = ৮৬০০০ গ্রেড-৩ (পূর্বের ৪,৫ গ্রেড)————— = ৭৬০০০ গ্রেড-৪ (পূর্বের ৬,৭ গ্রেড)————— = ৬৬০০০ গ্রেড-৫ কেডার (পূর্বের ৮ গ্রেড)——- = ৫৬০০০ গ্রেড-৬ নন-কেডার (পূর্বের ৯ গ্রেড)– = ৫১০০০ ২য় শ্রেণী:— গ্রেড-৭ (পূর্বের ১০ গ্রেড)—————- = ৪৬০০০ গ্রেড-৮ (পূর্বের ১১,১২ গ্রেড)———– = ৪১০০০ ৩য় শ্রেণী:— গ্রেড-৯ (পূর্বের ১৩,১৪ গ্রেড)———– = ৩৬০০০ গ্রেড-১০ (পূর্বের ১৫,১৬ গ্রেড)——— = ৩১০০০ ৪র্থ শ্রেণী— গ্রেড-১১ (পূর্বের ১৭,১৮ গ্রেড)——— = ২৬০০০ গ্রেড-১২ (পূর্বের ১৯,২০ গ্রেড)——— = ২১০০০ ২) প্রতি বছর ১০% করে ইনক্রিমেন্ট চাই। ৪) পদোন্নতি না দিতে পারলে প্রতি ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড চাই। উচ্চতর গ্রেডের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা রাখা যাবেনা। উচ্চতর গ্রেড পেলে কমপক্ষে ২০% বেতন বৃদ্ধি হতে হবে। ৫) বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের ৬০% দিতে হবে।গ্রাম এবং শহর এর বেলা একই % বাড়ি ভাড়া দিতে হবে।তাহলে কোন কর্মচারী আর শহরে থাকার লোভ করবেনা।মূল বেতন বাড়ার সাথে সাথে বাড়ি ভাড়ার % কমানো যাবেনা। ৬) ভ্রমণ ভাতা মাসে ৩০০০টাকা। ৭) টিফিন ও লান্স ভাতা মাসে ৬০০০ টাকা। ৮) চিকিৎসা ভাতা পুরো পরিবারের(৭জনের) মাসে ৭০০০টাকা। ৯) শিক্ষা ভাতা ১ সন্তান মাসে ৫০০০,২ সন্তান মাসে ১০০০০টাকা। ১০) উৎসব ভাতা হিসেবে ২ টা মূল বেতন চাই (বছরে ২ বারে ৪ টি মূল বেতন। ১১) নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ৫০%। ১২) শ্রান্তী বিনোদন ভাতায় ৩ টা মূল বেতন ১৩) বিদ্যুত বিল বাবদ ১৫০০ টাকা। ১৪) গ্যাস বিল বাবদ ২০০০ টাকা। ১৩) পিতা মাতার ভাতা মাসে ৫০০০ চাই (পিতা মাতা জীবিত থাকলে পাবে,মৃত থাকলে পাবেনা)। ১৪) সময় সময় বাজার মূল্য/দ্রব্যমূল্য বাড়লে বেতন বৃদ্ধি করে সমন্বয় করতে হবে। ১৫) দুর্নীতি করলে (প্রমাণ হলে) চাকরিচ্যুত/জেল/মৃত্যু দন্ড। ২০১৫ সালে যে পে স্কেল গঠন করা হয়েছিল তা অষ্টম জাতীয় পে স্কেল।অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য এর যে পরিস্থিতি তাতে নতুন করে আবার বেতন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। অর্থাৎ নবম পে স্কেল ঘোষণা করা অনেক জরুরী হয়ে পড়েছে। কিন্তু ২০২৩ সাল অতিবাহিত হতে চলেছে,অষ্টম পে স্কেল এর প্রায় আট বছর পার হওয়ার পরেও নতুন করে পে স্কেল গঠন করা হয়নি।তবে আশা করা যায় যে অতি শীঘ্রই নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হবে এবং সকল সরকারি চাকরিজীবীদের কথা বিবেচনা করা হবে। Post navigation বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চুক্তিভিত্তিক অ্যাথলেট ইমরানুর অতিথি হয়ে রাষ্ট্রপতির বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা