রাজনীতি

দুই নেত্রী,এক রাষ্ট্র: খালেদা–হাসিনা বৈরিতা কীভাবে বাংলাদেশকে বন্দি করেছে

  প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:২৮:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

দুই নেত্রী,এক রাষ্ট্র: খালেদা–হাসিনা বৈরিতা কীভাবে বাংলাদেশকে বন্দি করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বৈরিতা আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়—এটি একটি রাষ্ট্রকে দীর্ঘদিন ধরে অচল করে রাখার রাজনৈতিক কাঠামো। চার দশকের এই সংঘাত গণতন্ত্র,বিচারব্যবস্থা,অর্থনীতি ও সমাজ—সবকিছুকেই গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে ইতিহাসের রক্তক্ষত,ক্ষমতার প্রতিশোধ ও আদর্শিক অনমনীয়তা।

১৯৭৫: যে ক্ষত কখনও শুকায়নি
১৫ আগস্ট ১৯৭৫—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবার নয়,একটি জাতিকে বিভক্ত করে দেয়।
শেখ হাসিনা বরাবরই মনে করেছেন,জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করে ঘাতকদের পুনর্বাসিত করেন।

অন্যদিকে বিএনপির দাবি—এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিরস্থায়ীভাবে দানবায়নের অপচেষ্টা।এই পারস্পরিক অভিযোগই পরবর্তী সময়ে আপসহীন রাজনীতির ভিত্তি গড়ে দেয়।

আদর্শ না কি ক্ষমতার লড়াই?
আওয়ামী লীগ মুখে বলে ধর্মনিরপেক্ষতা,কিন্তু সমালোচকদের মতে ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করেছে।
বিএনপি জাতীয়তাবাদের কথা বললেও ক্ষমতায় গিয়ে সামরিক শাসনের উত্তরাধিকার ও আপসকামী রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন—
👉 আদর্শ এখানে আসলে ঢাল,আসল লড়াই ক্ষমতার।
২১ আগস্ট: রাজনীতির নৈতিক মৃত্যু

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক মৃত্যুক্ষণ।একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা—এবং তার পরও বিশ্বাসযোগ্য বিচার না হওয়া—রাষ্ট্রের ব্যর্থতার নগ্ন প্রমাণ।এই ঘটনার পর রাজনীতি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেনি,পরিণত হয়েছে শত্রু নিধনের খেলায়।

বিচার না প্রতিশোধ?

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড,শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরবর্তী মামলাগুলো—সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,“এ দেশে আইন আর ন্যায়ের প্রতীক নয়,ক্ষমতার হাতিয়ার।”ফলে সাধারণ মানুষের কাছে আদালতও রাজনৈতিক পক্ষপাতের সন্দেহ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি।

সমাজ,অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক মূল্য
এই বৈরিতার খেসারত দিয়েছে জনগণ—
ভোটাধিকার সংকুচিত
তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি বিমুখ
বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিকভাবে গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ
বাংলাদেশের রাজনীতি যেন দুই নেত্রীর ব্যক্তিগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।

মৃত্যুতে সৌজন্য,জীবনে নয় কেন?

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫—খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শেখ হাসিনার শোকবার্তা ইতিহাসে লেখা থাকবে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—
👉 এই সৌজন্য কি জীবিত অবস্থায় অসম্ভব ছিল?

আরও খবর

Sponsered content