মাজহারুল ইসলাম।।ধানমন্ডি ৩২—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের পবিত্র ঠিকানা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতীক।অথচ আজ সেই ঠিকানায় ঘটে গেল অত্যন্ত অমানবিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা: ঘর ভাঙা হলো নিরব দর্শকের সরকারের চোখের সামনে।আর কেউ যদি স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে ফুল দেয়,তাকে ঘিরে পড়ে গ্রেফতারের কুপ্রথা।
এতে একদম স্পষ্ট—আমাদের দেশে ইতিহাসকে সম্মান করার স্বাধীনতা নেই।ইতিহাসকে স্মরণ করাও অপরাধে পরিণত হয়েছে।ধানমন্ডি ৩২ শুধু একটি বাড়ি নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের প্রতীক,৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতি,হাজারো বাঙালির আত্মত্যাগের চিহ্ন।এই স্মৃতিকে শাসন ব্যবস্থার নীরব চাপে ভাঙা আমাদের জাতির নৈতিক অবক্ষয়ের সংকেত।
যারাই বলবেন “আইন শৃঙ্খলার নামে,” তারা কি সত্যিই মনে করেন,ফুল দেওয়াই অপরাধ? ইতিহাস স্মরণ করাই শাস্তিযোগ্য? গণতন্ত্রে,দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার স্মৃতিকে লালন করা অপরাধ নয়—সর্বকালের নৈতিক দায়িত্ব।
আর এই নিয়ন্ত্রণ ও গ্রেফতারের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দ্বৈতমানের চরম উদাহরণ।যাকে ভাঙা হলো,তাকে সরকার নীরব; যে ফুল দেয়, তাকে শাস্তি।যা ঘটেছে,তা শুধু প্রশাসনিক অমানবিকতা নয়—এটি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের হত্যার চরম নিদর্শন।
সরকার যদি সত্যিই নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে মনে করে, তবে তা এখন প্রমাণ করতে হবে: নৈতিক দায়িত্ব,ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা,এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।অন্যথায়,ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনায় প্রকাশিত এই দ্বৈত মান দেশের নৈতিক ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করবে।
এই ঘৃণ্য নীরবতা আর দ্বৈত নীতি,ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় লজ্জার চিহ্ন হিসেবে থাকবে।আমরা রাষ্ট্রকে মনে করাই,যে শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসকে দমন করতে চায়,অতীতকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে, এবং জনসাধারণকে ভয় দেখায়।
![]()
















































সর্বশেষ সংবাদ :———