প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২৭:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর,প্রতিনিধি।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

শনিবার বিকেলে নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর রেঞ্জ ও রংপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন,“আমরা ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।আশা করছি,আগামী ২০ তারিখের মধ্যে বাকি সবাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যাবে।”
বিগত ১৫ বছরে নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মানুষের আস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“নির্বাচনে পুলিশের কীভাবে কাজ করা উচিত—সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব ছিল।সে জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতেই আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত করছি।”
আইজিপি আরও বলেন,“আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা যাচাই করা এবং তাঁদের মতামত জানা।রংপুর বিভাগের সব পুলিশ কর্মকর্তা অবাধ,সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।এছাড়া সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী,বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
নির্বাচনকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আইজিপি জানান,সরকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য।ঝুঁকিপূর্ণ আট হাজার এবং মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জেলা পর্যায়ে এসব সরঞ্জাম কেনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন,“একসঙ্গে শত শত অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ১৩ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ২৫১টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।”
বিগত ১৫ বছরের ‘দলীয় পুলিশ’ তকমা থেকে বেরিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বাহারুল আলম বলেন, “পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করাতে এবং সদস্যদের মনোবল ফেরাতে আমরা গত এক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শতভাগ সফল না হলেও আমাদের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই।”
এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী,উপপুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমদ,রংপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

















