সারাদেশ

তানোরে কিশোরী অপহরণের অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে রফাদফা,এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

  প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:৩৪:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

তানোরে কিশোরী অপহরণের অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে রফাদফা,এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি।।রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকায় এক প্রবাসীর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পরে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি রফাদফা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে,যা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,কলমা ইউনিয়নের অমৃতপুর গ্রামের লিটনের ছেলে এবং বনকেশর ব্রীজঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপুল (১৮) ওই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে তানোর থানায় অপহরণের অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা জানান,বিপুল দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।এতে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় তাকে পথে-ঘাটে উত্যক্ত করত।বিষয়টি আগেই অভিযুক্তের পরিবারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,গত ৫ জানুয়ারি সকালে শফিকুল ওরফে বাদলের সহযোগিতায় বিপুল কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।পরে তারা দুদিন দু’রাত আত্মগোপনে থাকে।

এদিকে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই অভিযোগ তুলে নিতে কিশোরীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জানুয়ারি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম মোল্লার উদ্যোগে কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখণ্ডা গ্রামে তার নিজ বাসভবনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মামলা না করার মুচলেকা নেওয়া হয় এবং পরে কিশোরী ও অভিযুক্ত যুবককে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন—অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধ কি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য?তিন দিন অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা কিশোরীর নিরাপত্তা ও দায়ভারই বা কার? স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে,কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে বিধ্বস্ত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিশোরীর এক স্বজন বলেন, “আমরা পরিস্থিতির শিকার। সালিশের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করা হয়েছে।কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়ে থাকলে এর দায় কে নেবে?” এ বিষয়ে তারা মানবাধিকার কমিশন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শানীনুজ্জামান বলেন,“অপহরণের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।”

অন্যদিকে,এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন,“এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সালিশ ছিল না।দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের নিয়ে বসে একটি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।”

ঘটনাটি এলাকায় নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও খবর

Sponsered content