অপরাধ-আইন-আদালত

ডিএমপির দাবিকে ভারত সরকারের সরাসরি অস্বীকারঃ প্রশ্নের মুখে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি

  প্রতিনিধি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:২৯:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএমপির দাবিকে ভারত সরকারের সরাসরি অস্বীকারঃ প্রশ্নের মুখে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যে তথ্য উপস্থাপন করেছে,তা সরাসরি অস্বীকার করেছে ভারত সরকার।বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল,হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শ্যুটাররা ভারতে পালিয়ে গেছে এবং পালাতে সহায়তাকারী দুই ভারতীয় নাগরিককে মেঘালয় পুলিশ আটক করেছে।তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই দাবি “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভারতের এমন সরাসরি অস্বীকৃতির ফলে ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতা,তদন্তের স্বচ্ছতা এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএমপির দাবি কী ছিল

ডিএমপি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়—শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রধারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়েছে।পালাতে সহায়তাকারী দুই ভারতীয় নাগরিককে মেঘালয় পুলিশ আটক করেছে।বিষয়টি দুই দেশের পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ঘাটিত হয়েছে।এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ যোগসূত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

ভারতের অবস্থান: “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর”

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ভারতে আটক করা হয়নি।মেঘালয় পুলিশ এমন কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার পরিচালনা করেনি।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা যাচাইহীন ও বিভ্রান্তিকর।ভারতের এই অবস্থান কূটনৈতিক চ্যানেল এবং গণমাধ্যম—উভয় মাধ্যমেই স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

তদন্ত না প্রোপাগান্ডা—প্রশ্ন উঠছে কেন

রাষ্ট্রীয় একটি বাহিনী সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে যে তথ্য দেয়, তা সাধারণত প্রাথমিক যাচাই,গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমন্বয়ের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অস্বীকারে স্পষ্ট হচ্ছে-ডিএমপির বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার গুরুতর গরমিল রয়েছে।

এতে প্রশ্ন উঠেছে—তথ্য যাচাই ছাড়া কেন সংবাদ সম্মেলন করা হলো?এই বক্তব্য কার অনুমোদনে প্রচার করা হয়েছে?
তদন্তের দুর্বলতা ঢাকতেই কি সীমান্ত–পার গল্প সাজানো হয়েছে?দায় কার—ডিএমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় না গোয়েন্দা সংস্থা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এমন ঘটনায় দায় শুধু একটি ইউনিটের নয়।যদি ভুল তথ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারিত হয়, তবে দায়—

সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ

এবং পরোক্ষভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায়

কারণ,পুলিশের সংবাদ সম্মেলন মানেই তা সরকারের অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি

এই ঘটনায় বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে—

তদন্তের ওপর জনআস্থা কমছে

ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে

নিহতের পরিবার ও সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে

বিশ্লেষকদের মতে,তদন্তে ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে যদি রাষ্ট্র ভুল তথ্যের আশ্রয় নেয়,তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

জবাবদিহির দাবি জোরালো

সুশীল সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি—

ডিএমপিকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে হবে

ভুল তথ্য হলে দায় নির্ধারণ করতে হবে

তদন্তের অগ্রগতি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে

কারণ,মিথ্যার ওপর রাষ্ট্র দাঁড়াতে পারে না,আর প্রোপাগান্ডার ওপর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় না।

উপসংহার

শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় যদি তথ্য বিভ্রান্তি তৈরি হয়,তবে তা শুধু একটি তদন্তের ব্যর্থতা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট।এখন সময় দায় এড়ানোর নয়,সময় সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর।

দেশবাসী নাটক নয়—স্পষ্ট উত্তর চায়।

আরও খবর

Sponsered content