প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:৩৭:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জুলাই মাসে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী,গত দেড় বছরে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজারের মতো মামলা হলেও এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৬১ জন।এ বাস্তবতা বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষ করে জুলাই মাসে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।অনেকের মতে,পুলিশ হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর মনোবল ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে।
একাধিক সূত্র বলছে,জুলাইয়ের সহিংসতায় নাহিদ,তারেক কিংবা শফিক—এমন কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক নেতার পক্ষ থেকে পুলিশ হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্টদের দাবি,যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল,তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে এসব অপরাধ করেছে।
আইনজ্ঞদের মতে,পুলিশ সদস্যরা অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন-আদালতের মাধ্যমেই বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ‘মব জাস্টিস’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং আইনের শাসনের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন,পুলিশ হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে পুলিশ কেন ঝুঁকি নেবে—সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন,ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো আপোষ হওয়া উচিত নয়—এমনকি শত্রুর ক্ষেত্রেও ইনসাফ নিশ্চিত করতে হবে।কারণ বিচারহীনতা কেবল একটি পক্ষকে নয়,পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তারা আরও বলেন,সাধারণ জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্র নয় যে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে ধরে আনতে পারবে।তাই দেশের ভেতরেই কার্যকর ও নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ।
সব মিলিয়ে,জুলাই হত্যাকাণ্ড ও পুলিশ হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা,ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ—সবকিছুই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

















