প্রতিনিধি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:১৬:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।এনসিপির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিলের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে নাড়া দিয়েছে ‘জুলাই’ ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে চলমান বিতর্ককে।তিনি যা বলছেন,তা কোনো চূড়ান্ত রায় নয়—বরং গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়,তবে তা কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল নয়; তা হবে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত।

নীলার ভাষ্য অনুযায়ী,‘জুলাই’ কোনো হঠাৎ বিস্ফোরণ নয়; বরং ছিল পূর্বপরিকল্পিত,ধাপে ধাপে সাজানো একটি নকশা—যাকে তিনি ‘জুলাই মেটিকুলাস’ ডিজাইন বলে আখ্যা দিয়েছেন।তার দাবি,কীভাবে উত্তেজনা তৈরি করা হবে,কোন বক্তব্য কখন ছড়ানো হবে,কোন ইস্যু দিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করা হবে—সবকিছুই নাকি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল।
এই বক্তব্যের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন,একটি তুলনামূলকভাবে সাজানো-গোছানো রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল।অর্থনীতি,প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক আস্থার ওপর একযোগে চাপ তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার কৌশল—এমন অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে এখানে সতর্কতা জরুরি।সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা প্রয়োজন—
এগুলো অভিযোগ,প্রমাণ নয়।
কিন্তু অভিযোগগুলো যেহেতু একজন সাবেক রাজনৈতিক নেত্রীর মুখে এসেছে,যিনি সংশ্লিষ্ট পরিমণ্ডলের ভেতরের মানুষ ছিলেন,সেহেতু এগুলো উপেক্ষা করাও দায়িত্বহীনতা হবে।
প্রশ্ন উঠছে—
যদি সত্যিই এমন কোনো ‘মেটিকুলাস’ পরিকল্পনা থাকে, তার নথি কোথায়?
কারা এতে যুক্ত ছিল?
রাষ্ট্রের কোন কোন প্রতিষ্ঠান কখন সতর্কতা হারিয়েছে?
নাকি সবকিছুই ছিল রাজনৈতিক ব্যাখ্যার লড়াই?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়,স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে আসতে হবে।নইলে ‘জুলাই’ হয়ে থাকবে একপক্ষের কাছে ষড়যন্ত্র,আরেকপক্ষের কাছে গণ-অভ্যুত্থান—আর সত্য চাপা পড়বে ধোঁয়াশায়।
বাংলাদেশের রাজনীতি ইতোমধ্যে অতিরিক্ত বিভক্ত।প্রতিটি বড় ঘটনা যদি তথ্যের বদলে কেবল বয়ানের লড়াইয়ে আটকে থাকে,তবে ক্ষতি হবে রাষ্ট্রেরই।নীলার বক্তব্য তাই প্রতিহিংসার ভাষায় খারিজ করা যেমন ভুল,তেমনি প্রমাণ ছাড়া সত্য ধরে নেওয়াও বিপজ্জনক।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখন একটাই—
অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য উদঘাটন।
কারণ যদি সত্যিই কোনো পরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় একটি দেশকে অস্থির করার চেষ্টা হয়ে থাকে,তবে তা শুধু রাজনৈতিক অপরাধ নয়—তা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক ভয়ংকর নজির।
















