নিজস্ব প্রতিবেদক।।সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় নিহতদের পরিসংখ্যান ও ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মহল নিহতদের প্রকৃত পরিচয়,দায়ী ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী,মোট প্রায় ১,৪০০ জন নিহতের মধ্যে ৬৬ শতাংশ বা আনুমানিক ৯২৬ জন ৭.৬২ মিলিমিটার মিলিটারি গ্রেড বুলেটের আঘাতে নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ৮৪৬ জন ছাত্র ও সাধারণ জনগণ হলেও অবশিষ্ট ব্যক্তিরা কারা—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,প্রায় ১২ শতাংশ বা আনুমানিক ১৬৮ জন শর্টগানের গুলিতে নিহত হন।শর্টগান কারা ব্যবহার করেছে এবং নিহতদের পরিচয় কী—সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে সমালোচনা উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,প্রায় ২ শতাংশ নিহত পিস্তলের গুলিতে মারা গেছেন এবং ২০ শতাংশ ব্যক্তি অন্যান্য সহিংসতার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।তবে এসব ক্ষেত্রে হামলাকারী কারা এবং কীভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে—তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
অন্যদিকে,প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও তাদের নাম,পদ-পদবি ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বিভিন্ন মামলায় বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্য ও পেশাজীবীদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কিছু ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি ও তদন্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,আওয়ামী লীগের ৪৬ জন নেতাকর্মী এবং ৭ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায় প্রমাণিত হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা,ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়েও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে,নিহতদের প্রকৃত পরিচয়,ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং দায়ী ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরা হলে চলমান বিতর্ক কমবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়বে।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
![]()












































সর্বশেষ সংবাদ :———