প্রতিনিধি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৫৫:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
ডেস্ক রিপোর্ট।।বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের নামে খোলা একটি ফেক ফেসবুক আইডি থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী একাধিক স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য,গত বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্রের ৭(২) অনুযায়ী তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ওই ফেসবুক আইডি থেকে ‘গণভোটে না’ আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক ইতিহাস সংশ্লিষ্ট একাধিক স্পর্শকাতর বক্তব্য পোস্ট করা হয়।স্ট্যাটাসগুলো দ্রুত ভাইরাল হলে রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত স্ট্যাটাসে বলা হয়—

> “না মানে — রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ।
না মানে — জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা।
না মানে — মসজিদে হামলা বন্ধ।
না মানে — পাথর,ইট মেরে মানুষ হত্যা বন্ধ।
না মানে — দেশের সম্পদ লুটপাট বন্ধ।
না মানে — দুর্নীতি,দুঃশাসনের অবসান।
না মানে — নিরপরাধের রক্ত ঝরানো বন্ধ।
না মানে — আলেম-ওলামার সম্মান রক্ষা।
না মানে — গুম,খুন,নির্যাতন বন্ধ।
না মানে — শিক্ষা ও চিকিৎসায় সমতা।
না মানে — বেকার যুবকের মুখে হাসি।
না মানে — দেশের কৃষক-শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত।
না মানে — সৎ নেতৃত্বের বিজয়।
না মানে — দেশপ্রেমিকদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ।
না মানে — সত্য ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
না মানে — ইসলাম,দেশ ও মানবতার সুরক্ষা।
না মানে — শান্তি,প্রগতি ও স্বাধীনতার পথচলা।”
একই স্ট্যাটাসে ধারাবাহিকভাবে ২০ দফা অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয়—
> “হাওয়া ভবনের কালো রাজনীতি চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে না বলতে হবে।”
“মিস্টার ১০%-এর দুর্নীতির সাম্রাজ্য ধ্বংস করতে না বলতে হবে।”
“বিদেশে টাকা পাচারের মহোৎসব বন্ধ করতে না বলতে হবে।”
“৩০% ভোটে ১০০% শাসনের অন্যায় অবসান করতে না বলতে হবে।”
“ভুয়া ভোটার ও জাল পরিচয়পত্রের কারসাজি বন্ধে না বলতে হবে।”
“ব্যাংক লুট,ঋণ খেলাপি ও টাকা পাচারের জাল ভাঙতে না ভোট দিয়ে দেশ বাঁচাতে সবাই এগিয়ে আসার আহ্বান।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে লেখা হয়—
> “গণভোটে না না না সমর্থন থাকলে অবশ্যই পোস্টটা শেয়ার করুন।”
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটিকে সম্পূর্ণ ফেক বলে দাবি করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন,নাম ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হতে পারে।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে,ফেক আইডি দাবি করার পরও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশেষ করে জুলাই সনদ বিরোধী অবস্থান নিয়ে বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং এতে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল মহল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া না গেলেও দলীয় সূত্রে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত,দ্রুত স্পষ্ট অবস্থান ও আইনগত উদ্যোগ না নিলে এ বিতর্ক আরও ঘনীভূত হতে পারে।
















