প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ , ৩:৩৩:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ঢাকার জাহাঙ্গীর গেইটের সামনে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

তিন দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টার দিকে ঢাকার জাহাঙ্গীর গেইটের সামনে অবস্থান নেন তারা। এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে তারা সড়কে বসে পড়লে বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সশস্ত্র বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে বেলা ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে সরে যান। এরপর ফের যান চলাচল শুরু হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্ল্যাটফর্ম ‘সহযোদ্ধা’র ব্যানারে এই কর্মসূচিতে তাদের পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন।
তাদের অবস্থানের কারণে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বনানীর দিকে যাওয়া আসা এবং সেনানিবাসে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় যানজট।
কর্মসূচি চলার সময় তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার তানিয়া সুলতানা বলেন, “জাহাঙ্গীর গেইট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় চারপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ক্রাইম ডিভিশন ও সেনাবাহিনী রয়েছে। আমরা অন্যান্য সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছি।”
এক পর্যায়ে সেনানিবাস থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে এসে বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন এস এম এনামুল হাসান বিক্ষোভকারীদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তারা দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
“আমাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা আপনাদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে বলেছি। উনারা একটা টাইমলাইন বেঁধে দিয়েছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ওই টাইমলাইনের মধ্যে দাবিগুলো পূরণের ব্যবস্থা নিতে। আমরা আপনাদের সঙ্গে সমব্যথী। এজন্য অনুরোধ করব আপনারা সড়ক থেকে উঠে যান।”
এরপর জাহাঙ্গীর গেইটের সামনের সড়ক থেকে উঠে যান বিক্ষোভকারীরা। তারা স্বাধীনতা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
সহযোদ্ধা প্ল্যাটফর্মের প্রধান সমন্বয়ক নাইমুল ইসলাম বলেন, “স্যাররা তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে কথা বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেছেন আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তিন বাহিনীর প্রধানের প্রতি আমাদের আস্থা রাখতে হবে। এজন্য আমরা অবরোধ তুলে নিলাম।”
সহযোদ্ধার তিন দফা দাবি হল-
১. বিগত সরকারের আমলে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের চাকরিচ্যুতির সময় থেকে বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।
২. যদি কাউকে কোনো কারণে চাকরিতে পুনর্বহাল করা না যায়, তাহলে সকল সরকারি সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাকে পেনশনের আওতায় আনতে হবে।
৩. যে আইনি কাঠামো ও বিচার ব্যবস্থায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তার সংস্কার করতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন সাবেক সেনাসদস্য বলেন, সামরিক বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘একতরফা’ বিচারের মাধ্যমে শত শত সদস্যকে চাকরিচ্যুত করেছে। তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কাউকে কাউকে ‘আয়নাঘরে বন্দি করে অমানবিক নির্যাতনও’ করা করেছে।
সেনাবাহিনীতে যে এখনো ব্রিটিশ আমলের আইন বলবৎ রয়েছে, তা তুলে ধরে আইন সংস্কারের দাবিও জানান বিক্ষোকারীরা।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে স্মারকলিপি দেন চাকরি হারানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা, যারা গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে সরকারের ‘রোষানলে পড়ে’ চাকরি হারানোর অভিযোগ করছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “মিথ্যা অভিযোগ এনে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অনৈতিক কোনো কাজের প্রতিবাদসহ পারিবারিক-রাজনৈতিক কারণেও কাউকে কাউকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।”
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মাববন্ধন করে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান ৫০ জনের বেশি।












