প্রতিনিধি ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২০:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।এ সময় আরও কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত র্যাব কর্মকর্তার নাম ডিএডি মো. মোতালেব।তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য হলেও র্যাব-৭–এ সংযুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান,সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়।এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ডিএডি মো. মোতালেব মারা যান। ঘটনার পরপরই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়,জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি।দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়,ওই এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র ব্যবস্থা রয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সেখানে প্রবেশে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।এর আগেও একাধিক অভিযানের সময় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি,এই অপরাধচক্রের পেছনে দুটি প্রভাবশালী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে।একটি হলো ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া।অপরটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যা নিয়ন্ত্রণ করেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক।এই দুই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন,সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে ভয়ের কারণে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার উচ্ছেদ ও অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংস প্রতিরোধের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।












