গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে এবার ভিন্ন বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।জেলা জুড়ে নেই আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী।দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অনেক নেতা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন।ফলে শেখ হাসিনা,শেখ সেলিম ও ফারুক খানের অনুপস্থিতিতে এই দুর্গে নতুন করে ‘রাজা’ নির্বাচনের লড়াই শুরু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়,চিরচেনা জনসমাগম নেই।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সমাধি চত্বরের সব ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে।ভেতরে ও বাইরে পুলিশের কড়া পাহারা থাকলেও এলাকাজুড়ে ভোট নিয়ে আগ্রহ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী।কারও মতে ভোটের হার খুবই কম হবে।বিশেষ করে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ায় ভোটার উপস্থিতি কম থাকার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।তবে জেলা শহর ও অন্যান্য উপজেলায় নির্বাচনী প্রচার তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
ভোটে আগ্রহ কম,আতঙ্ক বেশি
স্থানীয়দের মতে,আওয়ামী লীগ না থাকাই শুধু নয়—মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কও ভোটারদের নিরুৎসাহিত করছে।শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ,হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে।এসব মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী আসামি হওয়ায় অনেক পরিবার চুপচাপ রয়েছে।
জানা গেছে,জেলার বিভিন্ন থানায় করা মামলাগুলোতে এক হাজারের বেশি নাম উল্লেখ এবং প্রায় ১৫ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।এতে রাজনৈতিক পরিবেশে এক ধরনের ভীতির আবহ তৈরি হয়েছে।
গোপালগঞ্জ–১: চতুর্মুখী লড়াই
মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা মাঠে সক্রিয়। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তিনি গ্রামেগঞ্জে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ ছাড়াও গণ অধিকার পরিষদের কাবির মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম আলোচনায় রয়েছেন।স্থানীয়দের মতে,ভোটের মাঠে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বহুমুখী।
গোপালগঞ্জ–২: শেখ সেলিমের আসনে বিভক্ত ভোট
সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–২ আসনে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শেখ সেলিমের একক আধিপত্য ছিল।এবার তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপি,জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটের মাঠে নেমেছেন।
বিএনপির প্রার্থী কে এম বাবরের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মনজু ও সিরাজুল ইসলাম ভোট কাটাকাটিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।এ ছাড়া সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থানও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
গোপালগঞ্জ–৩: শেখ হাসিনার আসনে নতুন সমীকরণ
টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–৩ আসনটি শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের নির্বাচনী এলাকা।এবার এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রচার চালাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটারদের মতে,আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় একটি অংশ কেন্দ্রে না এলে সংখ্যালঘু ভোট যেদিকে যাবে, সেদিকেই পাল্লা ভারী হতে পারে।ফলে এখানে ফলাফল নির্ভর করছে ভোটার উপস্থিতি ও ভোট বিভাজনের ওপর।
কী বলছেন পর্যবেক্ষকেরা
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি রবীন্দ্র নাথ অধিকারী বলেন,ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা এলে সেটার প্রভাব পড়তে পারে।তবে সামগ্রিকভাবে বিএনপির প্রার্থীরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ ছাড়া গোপালগঞ্জে এবারের নির্বাচন ব্যতিক্রমী।কম ভোটে হলেও কে হচ্ছেন নতুন ‘রাজা’—সেটাই এখন দেখার বিষয়।


















































সর্বশেষ সংবাদ :———