গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ জন জামানত হারিয়েছেন।তাদের মধ্যে বিএনপির দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী,কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয়।কিন্তু এসব প্রার্থী সেই সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১,গোপালগঞ্জ-২ ও গোপালগঞ্জ-৩—এই তিন আসনে মোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
গোপালগঞ্জ-১ আসন
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪৭টি।এর মধ্যে বৈধ ভোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৯টি এবং বাতিল ভোট ৬ হাজার ৪৬৮টি,যা মোট ভোটের ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এ আসনে সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী নিরদ বরণ মজুমদার (৩৪৯ ভোট)। এছাড়া জাতীয় পার্টির সুলতান জামান খান (৬২১),স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাইউম আলী খান (২,১৮০), এম আনিসুল ইসলাম (৩,২৫৭) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (৫,৮৭০ ভোট) পেয়েও জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
গোপালগঞ্জ-২ আসন
গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫টি।বৈধ ভোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬২১ এবং বাতিল ভোট ৪ হাজার ৪৬৪টি,যা মোট ভোটের ৩৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
এ আসনে গণফোরামের শাহ মফিজ সর্বনিম্ন ২১৫ ভোট পেয়েছেন।গণঅধিকার পরিষদের দীন মোহাম্মদ পেয়েছেন ৩০৫ ভোট।এছাড়া স্বতন্ত্র রনি মোল্লা (৪০৩),জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্লা (৪১৯),জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান (১,৩৭১), স্বতন্ত্র সিপন ভূইয়া (১,৯৩১),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম সিকদার (২,৯১১) এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (২,৮১৯) ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসন
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। এর মধ্যে বৈধ ভোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৫টি এবং বাতিল ভোট ৪ হাজার ২০টি,যা মোট ভোটের ৪৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
এ আসনে গণফোরামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস সর্বনিম্ন ২৬৯ ভোট পেয়েছেন।এনপিপির শেখ সালাহউদ্দিন পেয়েছেন ৫৯১ ভোট। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের আবুল বসার (২,৬০০), বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান (৩,৮০৫) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মারুফ শেখ (৪,৭১৭) ভোট পেয়েও জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
বিজয়ী ও জামানত রক্ষাকারীরা
তিনটি আসন থেকেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের তিন প্রার্থী,গণঅধিকার পরিষদের একজন,বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী,আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত একজন এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
![]()











































সর্বশেষ সংবাদ :———