জাতীয়

গণভবনের শেষ দিনগুলো: নিরাপত্তা উৎকণ্ঠা,গুজব ও কিছু প্রশ্নের উত্তর

  প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৪৮:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।গত ২ আগস্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিরাজ করছিল থমথমে ও দমবন্ধ করা এক পরিস্থিতি।নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কারণে সেদিন থেকেই গণভবনের নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে। বাইরে বোমা হামলা বা আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।এমন পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিদিনের ফজরের পর লেকপাড়ে হাঁটার কর্মসূচিও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধে বাতিল করা হয়।

এসএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানান, ২ আগস্ট থেকেই স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রেসিডেনশিয়াল গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ‘হার্ড লাইনে’ চলে যায়।

সূত্রটি বলেন,“সে সময় গণভবনের মূল রুমে বাহিনীগুলোর প্রধানদের সঙ্গে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসারদের প্রবেশের বিষয়েও কঠোরতা আরোপ করা হয়।পুরো গণভবন বুলেটপ্রুফ ছিল না,কেবল কিছু নির্দিষ্ট কক্ষ সুরক্ষিত ছিল। এসব কক্ষের বাইরে প্রধানমন্ত্রীকে কোনোভাবেই মুভ করতে দেওয়া হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি ছিল না,বরং অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ।”

দরবার হলের বৈঠক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

৩ আগস্ট দরবার হলে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক নিয়েও নানা আলোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।ওই বৈঠকে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে কয়েকজন তরুণ কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন এবং সেনাবাহিনী সাধারণ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে যাবে না—এমন আবেগী বক্তব্য দেন বলে সূত্রের দাবি।

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁরই এক বিশ্বস্ত সূত্র অবগত করলে তিনি প্রকাশ্যে কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া না দেখালেও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “কারা এসব করছে এবং কেন করছে—খোঁজ নিতে হবে।”

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সেদিন রাতেই সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করতে পারতেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেন,“তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।বরখাস্ত করলে সরাসরি ক্যুর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।”

সূত্র আরও জানান,সেনাপ্রধান গণভবনে উপস্থিত হলেও প্রধানমন্ত্রী তখনো আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং বলেন, “যাই বলা হোক,সরকার সঠিক পথেই আছে।”

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন

প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর গণভবন ত্যাগ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,সেনাপ্রধান ছাড়া সব বাহিনীর প্রধান ও পুলিশপ্রধান গণভবনে গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেন, “শেখ হাসিনাকে বিতর্কিত করতে এমন বহু গল্প ছাপা হয়েছে।”

৪ আগস্টের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে দাবি

৪ আগস্ট রাতে শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধানের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে সূত্রটি বলেন,“আমার সূত্র অনুযায়ী এসব রিপোর্ট ভিত্তিহীন।”

সূত্র জানায়,এসএসএফ প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিল,তিনি যদি গণভবনে অবস্থান করেন,তাহলে বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে মব মোকাবিলা করবে।তবে এতে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সে পথ না বেছে নিয়ে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও খবর

Sponsered content